নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান বইয়ে বিএমআর ও বিএমআই
শুরুতেই আসি স্থূলতা নিয়ে। দেহের ওজনের ২০ ভাগ কিংবা তার বেশি চর্বি দেহে সঞ্চিত হলে তাকে স্থূলতা বলে। অন্যদিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের যে শাখায় স্থূলতার কারণ, প্রতিকার ও প্রতিরোধ নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে বেরিয়াট্রিক্স বলে।
ধরো, তোমার কোনো এক বন্ধু একটু মোটা। সে স্থূলতার কোন স্তরে আছে সেটা জানতে চাও? এর জন্য তার বিএমআই বের করতে হবে। এর মানে হলো বডিমাস ইনডেক্স। শরীরের উচ্চতা ও ওজনের অনুপাতই হচ্ছে বিএমআই। অর্থাৎ উচ্চতা অনুযায়ী ওজন স্বাভাবিক আছে কি না সেটা মাপার উপায় এটি। এর একটি সূত্র আছে। মনে রাখাও সহজ। কেজির এককে প্রথমে বন্ধুটির ওজন মেপে নাও। তারপর মিটার এককে উচ্চতা মাপো। বিএমআই বের করো নিচের সূত্রের সাহায্যে—
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০০০ সালে বিএমআইয়ের মান নির্দেশিকা প্রকাশ করে। এর মাধ্যমে শরীরে স্বাভাবিক ওজন বজায় আছে কি না তা জানা যায় সহজেই। নির্দেশিকা অনুযায়ী কারো বিএমআই ১৮.৫-এর কম হলে সে ওজন স্বল্পতায় ভুগছে। ১৮.৫০ থেকে ২৪.৯৯ হলে স্বাভাবিক ওজন, ২৫-২৯.৯৯ হলে অতিরিক্ত ওজন, ৩০-৩৪.৯৯ স্থূলতার প্রথম স্তর, ৩৫-৩৯.৯৯ স্থূলতার দ্বিতীয় স্তর আর বিএমআই ৪০-এর ওপরে হলে স্থূলতার তৃতীয় স্তর। তোমার বন্ধুটির বিএমআই হিসাব করে এলে ২৭.২৮। সুতরাং তার দেহে অতিরিক্ত ওজন। ব্যায়াম দরকার তার। এবার ঝটপট তোমার ও পরিবারের অন্যদের বিএমআই বের করে ফেলো।
.png)
আরো পড়ুনঃ আগামীকাল এসএসসির ফল প্রকাশ
বিএমআরঃ বিএমআরের পূর্ণরূপ বেসাল মেটাবলিক রেট। এর মাধ্যমে পূর্ণ বিশ্রামরত একজন মানুষের দেহে ব্যবহৃত শক্তির পরিমাণ নির্ণয় করা যায়। তবে বিএমআরের মতো বিএমআই নির্ণয়ে সবার জন্য একই সূত্র নয়। লিঙ্গ ও বয়সভেদে ভিন্নতা আছে।
বিজ্ঞানী হ্যারিস বেনেডিক্টের সূত্র ব্যবহার করে বিএমআর নির্ণয় করা যায়।
ছেলেদের বিএমআর = ৬৬ +(১৩.৭ * ওজন-কেজি) + (৫ * উচ্চতা-সেন্টিমিটার) (৬.৮ বয়স-বছর)
মেয়েদের বিএমআর = ৬৫৫ +(৯.৬ ওজন কেজি) + (১.৮ * উচ্চতা সেন্টিমিটার) (৪.৭ * বয়স-বছর)
ধরো, ফাহাদ তোমার বড় ভাই। তার বয়স ২৭ বছর। উচ্চতা ১৬৫ সেন্টিমিটার। ওজন ৭৫ কেজি। বিএমআর কত?
উত্তর : বিএমআর=৬৬+(১৩.৭*৭৫)+(৫*১৬৫)+(৬.৮*২৭) = ২১০২.১
বিএমআর মানের সঙ্গে ব্যক্তির কাজের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন সূচক গুণ করে তার দৈনিক ক্যালরি চাহিদা বের করা যায়।