ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

২৬৩ বছরের ঐতিহ্যবাহী খেলা!

রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:২৬, ১৪ জানুয়ারি ২০২২
২৬৩ বছরের ঐতিহ্যবাহী খেলা!
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া অঞ্চলের জনপ্রিয় ‘হুমগুটি’ খেলা। ছবি- সংগৃহীত

ষড় ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। এই ছয়টি ঋতুতে প্রকৃতি নিজেকে সাজায় আপন মহিমায়। আর এসব ঋতুকে ঘিরে নানা উৎসব প্রচলিত রয়েছে দেশের বিভিন্ন জায়গায়। তেমনিভাবে প্রতিবছর পৌষ মাসের শেষ দিনে একই স্থানে আড়াই শতাধিক বছর ধরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে একটি বিশেষ খেলা। যে খেলাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে থাকে উৎসব। পিতলের মোড়কে তৈরি ৪০ কেজি ওজনের একটি বল নিয়ে চলে কাড়াকাড়ি খেলা। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া অঞ্চলের জনপ্রিয় এই খেলাটি ‘হুমগুটি’ খেলা নামে পরিচিত।

শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেল ৪ টায় ফুলবাড়িয়া উপজেলার বড়ই আটা গ্রামে অনুষ্ঠিত হয় ২৬৩তম ঐতিহ্যবাহী গুমগুটি খেলা। খেলাটিকে কেন্দ্র করে পাশ্ববর্তী এলাকায় চলছে উৎসবের আমেজ।

ঘরে ঘরে চলছে পিঠা-পুলির উৎসব। নুন-মরিচের পিঠা, গুটা পিঠা, তেলের পিঠা, দুধ চিতই পিঠা, কলার পিঠাসহ নানা পিঠার আয়োজন। খেলা উপলক্ষে মেয়েরা আসে বাপের বাড়ি। গ্রামগুলোতে খেলার কয়েকদিন আগেই আসা শুরু হয় দূর-দূরান্তের আত্মীয়-স্বজন। খেলাস্থলে জমে ওঠে গ্রামীণ ‘পহুরা’ মেলা। জবাই করা হয় গরু-ছাগল।

Advertisement

খেলার ইতিহাস:
প্রচলিত রয়েছে, ব্রিটিশ শাসনামলে ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছার জমিদার রাজা শশীকান্ত এবং ত্রিশালের বৈলরের জমিদার হেমচন্দ্র রায়ের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। জমির বিরোধ মীমাংসার জন্য বড়ই আটা গ্রামের তালুক-পরগনা সীমানায় গুটি খেলার আয়োজন করা হয়। খেলার শর্ত ছিল- গুটি যাদের সীমানার দিকে বেশি নিয়ে গুম করতে পারবে, তারা হবেন তালুক। পরাজিত দল হবে পরগনা। সে সময় মুক্তাগাছার জমিদার বিজয়ী হন এবং তাদের আওতাভুক্ত স্থানকে তালুক নামকরণ করা হয়। তবে হার-জিৎ থাকলেও খেলা থেকে জনমনে যে আকর্ষণ সৃষ্টি হয়েছ, তা কিন্তু থেমে থাকেনি। আজও তা ধারণ করে আসছে সেখানকার মানুষজন।

খেলার নিয়ম:
শুরুতে দুটি দলে খেলাটি অনুষ্ঠিত হলেও এখন চারটি দলে অনুষ্ঠিত হয়। উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব এবং পশ্চিম চারটি দল করা হয়। পিতলের তৈরি কমলালেবুর মতো বস্তুটির (গুটি) ওজন আনুমানিক ৪০ কেজি। পিতলের বস্তুটিকে মাঝখানে রেখে চারদিক ঘিরে ধরে খেলোয়াররা। অনেকটা কেড়ে নেয়ার মতো। এ খেলায় থাকে না কোনো রেফারি। বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে খেলা। কখনো দুই-তিনদিন পর্যন্ত  খেলা চলার রেকর্ড আছে।

একেক এলাকার একেকটি নিশানা থাকে। ওই নিশানা দেখে বোঝা যায় কারা কোন পক্ষের লোক। ‘গুটি’ কোন দিকে যাচ্ছে তা চিহিৃত করা হয় নিশানা দেখেই। নিজেদের দখলে নিতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হয় খেলায়। গুটিটি যেদিকে এসে গুম হবে সে বছর সে দিকের মানুষই বিজয়ী হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!