উত্তর : বিয়ে ভাঙার পর থেকেই কল্যাণী মেয়েদের শিক্ষার ব্রত গ্রহণ করছে।
মায়ের সঙ্গে তীর্থযাত্রায় গাড়িতে কল্যাণীকে দেখে মুগ্ধ হয়ে অনুপম বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যায় বাড়িতে। কিন্তু কল্যাণী তাকে ‘মাতৃ-আজ্ঞা’ এই দোহাই দিয়ে ফিরিয়ে দেয়। তারপর অনুপম বুঝতে পারে মাতৃভূমির কল্যাণে ব্রত গ্রহণ করেছে বলে কল্যাণী তাকে ফিরিয়ে দেয়।
.png)
৫। ‘মৃত্যুতে তিনি যে হাঁফ ছাড়িলেন সেই তাঁর প্রথম অবকাশ’—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর : নায়ক অনুপমের বাবার অবকাশ যাত্রা সম্পর্কে বোঝানো হয়েছে।
অনুপমের বাবা এককালে গরিব ছিলেন। পরে ওকালতি করে প্রচুর টাকা উপার্জন করেন; কিন্তু তা ভোগ করার সময় পাননি। তাই মৃত্যুর মধ্য দিয়েই তার অবকাশ যাত্রা শুরু হয়।
৬। মামাকে কেন অনুপমের ভাগ্যদেবতার প্রধান এজেন্ট বলা হয়েছে?
উত্তর : অনুপমের পিতার মৃত্যুর পর থেকে সংসারে অনুপমের মামা অভিভাবক হওয়ায় ভাগ্যদেবতার প্রধান এজেন্ট বলা হয়েছে।
সংসারের সব কাজকর্মের মতো অনুপমের বিয়ের সম্পর্কেও মামার বিশেষ অভিমতের গুরুত্ব ছিল। ধনীর কন্যা মামা পছন্দ না করলেও টাকার প্রতি আসক্তি ছিল তার অস্থিমজ্জায় জড়িত। তিনি এমন বেহাই চান, যাঁর টাকা নেই অথচ যে টাকা দিতে কোনো কার্পণ্য করবেন না। তাই মামার মতামত ও আদর্শেই অনুপমের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন হয় বলেই তাকে এ পৃথিবীতে তার ভাগ্যদেবতার প্রধান এজেন্ট বলা হয়েছে।
৭। ‘থাকিবার মধ্যে ভিতরে আছেন মা এবং বাহিরে আছেন মামা।’— কথাটির অর্থ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর : মায়ের আদেশ ও মামার মর্জি অনুসরণ করেই অনুপম বেড়ে উঠেছে, যা উক্ত কথায় বোঝানো হয়েছে।
এমএ পাস করার পর দীর্ঘ ছুটিতে অনুপম নির্ভাবনায় দিন কাটায়। পরীক্ষা শেষ অথচ চাকরি নেই, বিষয়-সম্পত্তি দেখাশোনা করার দায়িত্ব নেই, সে ব্যাপারে তার শিক্ষা ও ইচ্ছা কোনোটাই নেই। থাকার মধ্যে মা ও মামা আছেন বলে কোনো কিছুর জন্যই তাকে দুশ্চিন্তা করতে হয় না।
৮। পাত্রী দেখতে গিয়ে মামার মন ভার হয়েছিল কেন?
উত্তর : মেয়ের বয়স এরই মধ্যে ১৫ শুনেই মামার মন ভার হয়ে গেল।
মেয়ের চেয়ে মেয়ের বাপের খবরটাই অনুপমের মামার কাছে বেশি জরুরি। তথাপি আইবুড়ো মেয়েও তার পছন্দ নয়। বংশ মর্যাদার কোনো দোষ না, সমস্যা নেই। অবশেষে অনুপমের বন্ধু হরিশের মন ভোলানো কথার জোরে এবং ধনুক ভাঙা পণের কামনায় মামার মন নরম হয়েছিল।
৯। অনুপমের বিয়ের দিন মামা কিভাবে গহনা পরখ করেছিলেন?
উত্তর : কন্যার বাবা গহনায় ফাঁকি দিতে পারেন, এই ভয়ে মামা স্যাকরা নিয়ে গিয়েছিলেন।
স্যাকরা দাঁড়িপাল্লা ও কষ্টিপাথর নিয়ে মেঝেতে বসেছিল। কন্যার বাবা মেয়ের গা থেকে সমস্ত গহনা খুলে এনে সামনে দিলেন। মামা নোট বইয়ে গহনাগুলোর ফর্দ টুকে নিলেন, পাছে যা দেখানো হয়েছে তার কোনোটা কম পড়ে। হিসাব করে দেখলেন, যে পরিমাণ গহনা দেওয়ার কথা ছিল, তার চেয়ে সংখ্যায়, দরে এবং ভারে এগুলো অনেক বেশি।
১০। বাবার মৃত্যুর পর মা অনুপমকে কেমন করে মানুষ করেছেন?
উত্তর : অল্প বয়সে বাবা মারা যাওয়ার পর অনুপম মায়ের স্নেহে এবং বাবার রেখে যাওয়া অর্থের বদৌলতে খুব যত্নে মানুষ হয়।