এবার প্রক্টরিয়াল টিমের পদত্যাগ দাবি শিক্ষার্থীদের
ক্যাম্পাসে ছিনতাই বন্ধ এবং ছিনতাইকারী শনাক্তকরণে ব্যর্থ হওয়ায় প্রক্টরিয়াল টিমের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা।
বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলকের সামনে আয়োজিত নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব কথা বলেন তারা। মানববন্ধনে বিভিন্ন বিভাগের প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলো।
আরো পড়ুন: রাবিতে সিনেমাটিক স্টাইলে ছিনতাই!
.png)
ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ১৭ তারিখ রাতের ছিনতাইয়ের ঘটনার পরে প্রক্টরিয়াল টিম আমাদের সাথে হাস্যরসাত্মক কথা বলছিলো। এক সহকারী প্রক্টর কোনো তৎপরতা না দেখিয়ে বাসায় চলে যেতে চাচ্ছিলো। প্রত্যেক পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা থাকলেও আমরা তাদের কোনো পদক্ষেপ দেখতে পাইনি। আমরা মনে করি, বর্তমান প্রক্টরিয়াল টিম জোহা স্যারের স্মৃতিবিজড়িত সম্মানিত এই পদটাকে কলঙ্কিত করছে। আমরা এই প্রক্টরিয়াল টিমের পদত্যাগ দাবি করছি।
পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভলমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী আমানুল্লাহ খান বলেন, এরকম ছিনতাইয়ের ঘটনা বন্ধ করার সক্ষমতা এই প্রক্টরিয়াল বডি দেখাতে পারছে না। আমাদের দাবি, এই ‘অযোগ্য’ প্রক্টরিয়াল টিমের পদত্যাগ এবং যোগ্য ব্যক্তিদের পদায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
আরো পড়ুন: রাবিতে চার দিনে ৩ ছিনতাই, প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি
রাকসু আন্দোলন মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল মজিদ অন্তর বলেন, বিগত দুই সপ্তাহে ক্যাম্পাসে দশ থেকে বারোটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার সাথে জড়িতদের আটক বা ছিনতাই হওয়া জিনিস উদ্ধারের নজির প্রক্টরিয়াল বডি দেখাতে পারেনি। এই প্রক্টরিয়াল টিম ছিনতাইকারীদের রক্ষার কাজ করছে। কোনো ঘটনার পরে তাদের কাছে গিয়ে সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখে দূর্বৃত্তদের শনাক্ত করার কথা বললে তারা থানায় গিয়ে মামলা বা জিডি করতে বলেন। সব ঘটনায় যদি থানায় যাওয়া লাগে তাহলে প্রক্টরিয়াল টিমের দায়িত্ব কি?
‘অযোগ্য’ প্রক্টরের কার্যকলাপের দায় ভিসিকেও নিতে হবে দাবি করে তিনি আরো বলেন, দুই-এক দিনের মধ্যে ছিনতাইকারীদের আটক করতে না পারলে আমরা প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নিবো এবং পুরো প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবিতে কঠোর আন্দোলনে যাবো।
আরো পড়ুন: লিফটে আটকে থাকে ঢাবির ক্লাস
প্রসঙ্গত, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গত এক মাসে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে ছিনতাই। এই অল্প সময়ের মধ্যে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ১০-১২টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এখনো কোনো ছিনতাইকারীকে শনাক্ত করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীরা। সেখানে তারা প্রক্টরের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছিলো, তবে এবার তারা পুরো প্রক্টরিয়াল টিমের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে।