মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের বেশ কয়েকটি হল ও মেয়েদের হলগুলো পরিদর্শন করে দেখা যায় নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ব্যাগে নিয়ে হল থেকে বের হয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। হল থেকে বের হয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা তুলনামূলক অনেক কম হলেও শঙ্কায় আছে অনেকেই। বিশেষ করে হলের প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা গণরুমে থাকে তাদের মধ্যে আতঙ্ক বেশি কাজ করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আমরা যারা প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী তাদের গণরুমে থাকতে হয়। ফলে রুমে সবসময়ই মানুষে গাদাগাদি অবস্থা থাকে। অনেকেরই জ্বর, সর্দি হচ্ছে। অনেকের আবার করোনা পজিটিভও ধরা পড়েছে। তাছাড়া প্রথম বর্ষের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা ভ্যাক্সিন নেয়নি, করোনা আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে ও ভ্যাক্সিন নিতে অধিকাংশরা হল ছেড়ে চলে বাড়ি যাচ্ছে৷ এসব আতঙ্কের কারণে আমরা আপাতত বাড়িতে যাচ্ছি।
.png)
তবে হলের অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের বক্তব্য হচ্ছে, এর আগে করোনার দীর্ঘ বন্ধের কারণে শিক্ষার্থীরা সেশনজটে পড়ে গেছে। এখন পুনরায় যদি আবার শিক্ষা কার্যক্রম নির্দিষ্ট গতিতে না চলে তাহলে সামনে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হবে এই শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে তারা বলেন হল বন্ধ না করে অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত প্রাসঙ্গিক। কেন না গ্রামে গেলে একদিকে শিক্ষার্থীদের করোনা সংক্রমণ বাড়তে পারে আবার অপরদিকে গ্রামে নেটওয়ার্ক জটিলতায় ক্লাসে সমস্যা হয়। তাই সুন্দরভাবে যাতে ক্লাস চলমান থাকে সেজন্য শিক্ষার্থীদের হলে রেখে অনলাইন ক্লাস চলমান থাকুক।
শামসুন্নাহার হলের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শিমা ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সময়সীমা বাড়তে পারে, তখন যদি আবার লকডাউন বা অন্য কারণে বাড়ি যেতে পারবো কি না সেজন্য এখনই হল ছাড়ছি৷
সূর্যসেন হলের এক শিক্ষার্থী জানান, এক সপ্তাহের বন্ধ প্রায় ১৮ মাস পর্যন্ত ছিল, এখন আবার দুই সপ্তাহ বন্ধ দিয়েছে এ বন্ধ যে দুই বছর পর্যন্ত গড়াবে না তা তো বলা যায় না৷ আর হলে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে তাই বাড়িতে চলা যাওয়াটায় ভালো মনে করছি৷
ছাত্রীদের হল ছাড়ার ব্যাপারে শামসুন্নাহার হলের প্রভোস্ট ড. লাফিফা জামাল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, ক্লাসগুলোও অনলাইনে শুরু হচ্ছে৷ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা উদ্ধিগ্ন৷ আর হলে তো চাইলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সম্ভব না কারণ এক রুমে তিন হতে আটজন করে থাকছে৷ তাই যারা একটু স্বাস্থ্য সচেতন তারা হল ছেড়ে বাড়ি চলে যাচ্ছে৷
প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য সচিব ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে যেহেতু দুই সপ্তাহ সশরীরে ক্লাস বন্ধ, সেহেতু শিক্ষার্থীদের যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার আছে। হলে করোনা সংক্রমণের বিষয়টি প্রশাসন সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন, নির্দেশনা দিচ্ছেন।