বলছিলাম ভ্রমণ পিপাসু মো. আয়াতুল্লাহ কথা। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। সম্প্রতি নেত্রকোনা জেলা ভ্রমণের মধ্য দিয়ে শেষ করেছেন দেশের ৬৪টি জেলায় ভ্রমণ। তার এই দীর্ঘ যাত্রায় কখনো সঙ্গী হয়েছেন বন্ধু। আবার কখনো বা ভ্রমণ করেছেন একাএকা। ৬৪ জেলা ভ্রমণ শেষে অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তিনি।
আরো পড়ুন: শীতের অপরূপ সাজে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
.png)
আয়াতুল্লাহ জানান, ২০২৮ সালের ২৩ নভেম্বর দিনাজপুরের রামসাগর দীঘি, রাজবাড়ী, কান্তজীর মন্দির, নয়াবাদ মসজিদ, স্বপ্নপুরী পিকনিক স্পট দিয়ে শুরু করেন দেশ ভ্রমণের যাত্রা। করোনা মহামারি আসার আগে ভ্রমণ শেষ করেন দেশের ৩৫টি জেলা। এরপর ২০২০ সালে করোনার কারণে বিরতি নেন ভ্রমণ থেকে। লকডাউন শেষে বাকি ২৯ জেলা ভ্রমণ শেষ করেন। ২০২২ সালের ২১ জানুয়ারি নেত্রকোনা জেলার বিরিশিরির চিনামাটির পাহাড়, সবুজ পানির হ্রদ, উপজাতীয় কালচারাল একাডেমি ও সোমেশ্বরী নদী ভ্রমণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা ভ্রমণ শেষ করেন।
আরো পড়ুন: রাবি গবেষকের নতুন ধান, প্রতি হেক্টরে ফলন সাড়ে ৬ টন
এই দীর্ঘ যাত্রা পথে যেমনিভাবে জ্ঞানের ভান্ডার বহুগুণে সমৃদ্ধ হয়েছে, তেমনি তিক্ত অভিজ্ঞতার স্বাদও গ্রহণ করেছেন। আয়াতুল্লাহ বলেন, যাত্রাপথে কখনো রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট, মসজিদসহ রাস্তার পাশে তাবু করে থেকেছি। মাঝেমধ্যে স্বল্প টাকার হোটেলে রাত কেটেছে। বান্দরবনে আদিবাসী উপজাতিদের জুম ঘরেও থেকেছি। মাঝেমধ্যে খাবার নিয়েও সমস্যায় পড়তে হয়েছে। আধা কাঁচা মুরগী রান্নাসহ নানা অখাদ্যও খেতে হয়েছে। কখনো কখনো আর্থিক সমস্যার কারণে না খেয়েও থাকতে হয়েছে।
আরো পড়ুন: ধার করা ক্যামেরায় বানানো সিনেমাটি জিতলো কান চলচ্চিত্র পুরস্কার
তিনি আরো বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গার বিশাল বিশাল পাহাড়ে যাওয়ার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা হেঁটেছি না খেয়ে। এমনকি কখনো কখনো গভীর রাতে টর্চ লাইট জ্বালিয়ে পাহাড়ে হেঁটেছি। যা ছিলো জীবনের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। এই পাহাড়গুলোতে যাওয়ার জন্য বুক সমান পানির মধ্যে হেঁটেছি। দুইবার ছিনতাইয়ের শিকারও হয়েছি। তবুও থেমে থাকিনি। কারণ ইচ্ছে ছিলো পুরো বাংলাদেশ ভ্রমণ করার। তাই এক এক করে দেশের সবগুলো জেলা ঘুরে বেড়িয়েছি।
সারাদেশ ভ্রমণের উদ্দেশ্য জানতে চাইলে আয়াতুল্লাহ বলেন, আমাদের দেশের সংস্কৃতি, মূল্যবোধ, বিভিন্ন স্থানের মানুষের আচার-বৈশিষ্ট্য, বিভিন্ন জেলার আঞ্চলিক ভাষা, ইতিহাস-ঐতিহ্য জানতে ও শিখতে আর ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সম্পর্কে জানতেই বেরিয়ে পড়েছি। পুরো বাংলাদেশকে জানতে চেয়েছিলাম, দেশের প্রতিটি কোনায় কোনায় যেতে চেয়েছি। বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা শত-শত পুরনো ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো দেখাই ছিলো আমার মূল লক্ষ্য।
আরো পড়ুন: ২৬৩ বছরের ঐতিহ্যবাহী খেলা!
খরচের বিষয়ে জানতে চাইলে ভ্রমণপিপাসু আয়াতুল্লাহ বলেন, দেশের প্রায় সব জায়গাতেই বন্ধু ও শোভাকাঙ্খী থাকার কারণে ভ্রমণ অনেক সহজ হয়েছে। মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে ভ্রমণ সম্পূর্ণ করেছি। পরিবার থেকে হাত খরচের জন্য যে স্বল্প পরিমাণ টাকা দিতো সেটা থেকেই ভ্রমণের শখ মেটাতাম। এবার স্বপ্ন পুরো বিশ্ব ঘুরে দেখার।