রোববার ভিসি বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে ২০২০ সালে এসএসসি পাস করা কয়েকজন শিক্ষার্থী। এসময় তারা প্রো-ভিসি, প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টাকেও স্মারকলিপির অনুলিপি প্রদান করে এবং প্রক্টর ও শিক্ষক সমিতির সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করেছেন, ২০২০ শিক্ষাবর্ষে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে অনেক বাধার সম্মখীন হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে পরীক্ষা পিছানো হয়েছে। এতে আমরা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। কোভিড-১৯ এর কারণে অনেক পরিবারে উপার্জনক্ষম ব্যক্তির রোজগার বন্ধ হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীকে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে হয়েছে। আবার অনেকে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কারণে পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়েছিল। বৈশিক মহামারির কারণে শিক্ষার্থীর পারিবারিক, মানসিক, অর্থনৈতিক, শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমতাবস্থায় ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে অকৃতকার্য হয়েছে। তাই দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগ প্রার্থনা করছি।
.png)
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা দুই দফা দাবি জানায়। দাবিগুলো হলো- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ এবং ইউনিট প্রতি সিলেকশন বাতিল। কেননা অনেক পরীক্ষার্থী এসএসসি এবং এইচএসসিতে খারাপ রেজাল্ট করার পরও ভর্তি পরীক্ষায় সাফল্য পায়। যা বিগত বছরগুলোতে দৃশ্যমান হয়েছে।
স্মারকলিপির বিষয়ে জানতে চাইলে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান বলেন, আমরা দ্বিতীয়বারের মতো পরীক্ষা দিতে চাই। আমাদের এই ব্যাচটি করোনার কারণে নানান জটিলতার মধ্যে পড়ে। একটা পরিকল্পনাহীন অটোপাশের মধ্যদিয়ে আমাদের রেজাল্ট কেন্দ্রীক নানা সমস্যায় পড়তে হয়েছে। আমরা পড়াশোনায় একটা অগোছালো প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিলাম। যার ফলে ভর্তি পরিক্ষাতে আমাদের বেগ পেতে হয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীদের একটা বৃহত্তর অংশ আবার পরীক্ষায় বসতে চাই। আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের দাবি মেনে নেবে। আমাদের দাবি না মানলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যাবো।
প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় নতুন কিছু নিয়ম সংযোজন করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেই শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তি পরীক্ষায় বহু নির্বাচনী (এমসিকিউ) এর পাশাপশি লিখিত পরীক্ষা নেয়া হয়। সেই সঙ্গে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ বাতিল করা হয়। তবে এবার ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে করোনা মহামারির জন্য শুধু এসসিকিউ পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হয়। দ্বিতীয়বার পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়নি।