সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান হলের সামনে নির্মাণাধীন অ্যাকাডেমিক ভবনে সাইনবোর্ডে এ নামকরণ করেন তারা।
এসময় শিক্ষার্থীরা জানান, একজন শিক্ষার্থীর জীবন ভবন নির্মাণের অব্যবস্থাপনার কারণে ঝরে গেছে। আমরা এর প্রতিবাদ করে প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছি। নিহত হিমেলের নামে এই ভবনের নামকরন করতে হবে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের আশ্বাস দেয় তারা এই ভবনের নামকরন হিমেলের নামেই করবেন।
.png)
আরো পড়ুন>>> হিমেল স্মরণে উন্মুক্ত শিল্পকর্মে প্রতিবাদ সহপাঠীদের
শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসেনর এই আশ্বাস বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের দাবি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান থাকবে। এর পাশাপাশি তার স্মৃতি এই ভবনের মাধ্যমে চিরঞ্জীবী হোক। এটা কেবল একটা সাইনবোর্ড নয় এটা আমাদের ভালেবাসা, আবেগ ও দাবির বহিঃপ্রকাশ।
শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এই ভবনের নামকরণের সাইনবোর্ডটা আমাদের দাবিকে আরো জোরদার করে দৃশ্যমান রাখবে। তাছাড়া বিভিন্ন সময় সড়কে আমাদের জীবন বিপন্ন হয় ঝরে পরে। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো শাস্তি আমরা দেখিনা। সুতরাং এই অব্যবস্থাপনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের সবাইকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সব দাবি মেনে নেয়া হোক।
আরো পড়ুন>>> ট্রাকচাপায় আহত রিমেলকে দেখতে গেলেন রাবি ভিসি
চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী তারিফ হাসান মেহেদী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক পদগুলো চিরস্থায়ী নয়। নির্মাণাধীন ভবন তৈরিতে অনেক সময় লেগে যেতে পারে। এরই মধ্যে নতুন প্রশাসন আসলে যেনো ভুলে না যায় এজন্যই সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে ভিসি অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলের সড়ক এবং নির্মাণাধীন ভবনের নাম হিমেলের নামে করার আশ্বাস দিয়েছি। আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করছি। যদিও বিষয়গুলো সময় সাপেক্ষ। তাই সে পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ধৈর্য্য ধারণ করতে হবে।
নির্মাণাধীন বিজ্ঞান ভবনের সামনে সাইনবোর্ড লাগানোর সময় চারুকলা অনুষদসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
আরো পড়ুন>>> রাবিতে মোমবাতি জ্বালিয়ে হিমেলকে স্মরণ
এর আগে, গত ১ ফেব্রুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান হল সংলগ্ন রাস্তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিক ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদ হাবিব হিমেল নির্মমভাবে নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত পাথরবাহী এক ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত হন। এ ঘটনার পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পাঁচ ট্রাকে আগুন দেওয়াসহ বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচি করেন। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবি জানালে তোপের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার তাদের সব দাবি মেনে নেয়।
পরের দিন (২ ফেব্রুয়ারি) হিমেলের মরদেহ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জানাজা শেষে নাটোরে পাঠানো হয়। সেখানে তার মামাবাড়ির কবরস্থানে দাফন করা হয়। হিমেল ‘হত্যাকান্ডের’ পর থেকে আলপনা এবং জলরঙে ছবি এঁকে নানাভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন তার সহপাঠীরা।