ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

অযত্ন-অবহেলায় শাবিপ্রবির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

নাঈম আহমদ শুভ, শাবিপ্রবি
প্রকাশিত: ১৪:৩৬, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২২
অযত্ন-অবহেলায় শাবিপ্রবির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।

সংস্কারের অভাবে অযত্ন-অবহেলায় বেহাল দশা হয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের। কেবল জাতীয় দিবসের আগের দিন একটু পরিষ্কার করা হয়। এছাড়া ভাঙন-ফাটলে ছেয়ে গেলেও সারা বছরে দেখা মেলে না কোনো সংস্কার কার্যক্রম। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। 

জানা যায়, ১৯৯১ সালে শাবিপ্রবি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করার পর প্রথমে ক্যাম্পাসে কোনো শহীদ মিনার ছিল না। সেজন্য শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীরা সিলেট শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ যেতো। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারপ্লান অনুযায়ী এ শহীদ মিনার নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে থাকে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকে এক কিলো রোড পাড়ি দিয়ে গোল চত্বরে এসে একাডেমিক ভবন-এ ও একাডেমিক ভবন-ডি এর মাঝ বরাবর সোজা ইউনিভার্সিটি সেন্টার দেখা যায়। ইউনিভার্সিটি সেন্টার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনের মধ্য দিয়ে সামনে একটু এগুলে চোখে পড়ে পাহাড়ের উপরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। সমতল থেকে প্রায় ৫৮ ফুট উঁচুতে ৯৫ টি সিঁড়ি বেয়ে পাওয়া যায় শহীদ মিনারের প্রথম বেদি। পরে আরো সাতটি সিঁড়ি বেয়ে মূল বেদিতে যেতে হয়। 

Advertisement

ছয় হাজার একশ ছিয়াশি বর্গফুট বিস্তৃত জায়গা নিয়ে ২০০১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। ঐ বছর সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় শাবিপ্রবির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। শহীদ মিনারটির নকশা প্রণয়ন করেন স্থপতি মহিউদ্দিন খান। এরপর থেকেই প্রতিবছর ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সিটি সেন্টারের ডান পাশে অবস্থিত আইপিই বিভাগের ওয়ার্কশপ। এর একটু সামনে পাহাড়ের উপর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে শাবিপ্রবির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। দীর্ঘদিন সংস্কারের কোনো ছোঁয়া না পাওয়ায় শহীদ মিনারের বিভিন্ন জায়গায় দেখা দিয়েছে ফাটল। সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠেই প্রথম বেদির বাম পাশে দেখা যায় কয়েক জায়গায় ফাটল। একটু এগিয়ে দ্বিতীয় বেদিতে যেতে দুই দিকে রয়েছে প্রায় ১০ ইঞ্চি গভীর ফাটল, দুইদিকের দেয়ালও হেলে গেছে প্রায় ৬ ইঞ্চির মতো। এদিকে শহীদ মিনারের মূল বেদির বাম পাশের অবস্থা আরো বেহাল। অনেক দিন হয়েছে সংস্কার না হওয়ায় অনেক জায়গা দেবে গেছে। এছাড়া শহীদ মিনারের পিছনে অনেক জায়গায় ছোট ছোট অনেক গুলো ফাটল রয়েছে। যেকোনো সময় দুই দিকের দেয়াল মাটিতে পড়ে যেতে পারে। এসব দেয়ালে বসে দর্শনার্থীরা ফটোশট করে থাকেন। যার দরুন হঠাৎ যেকোনো মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন গাছগাছালির পাতা পড়ে শহীদ মিনারের চারদিকে নোংরা হয়ে থাকে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কিংবা শহীদ মিনারের এসব ফাটল সংস্কারের দিকে কোনো সুনজর নেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন বলেন, অবকাঠামোর দিক দিয়ে শাবিপ্রবি দেশের অনন্য বিশ্ববিদ্যালয়। ভাষা শহীদদের স্মরণে নির্মিত এ শহীদ মিনার বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারপ্লান অনুযায়ী ভালো মানের আর্কিটেক্ট দিয়ে নকশা প্রণয়ন করা হয় যা দেশ বিদেশের মানুষের নজর কেড়েছে। আগামীতে আরো নতুন নতুন বিভিন্ন স্থাপত্য নির্মাণ করে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে কার্যক্রমের ধারা অব্যাহত রয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!