সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী তানজিলুর রহমান বলেন, জাতি হিসেবে আমরা সব সময় ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে সামনে এগিয়ে যাবো। এই এগিয়ে যাওয়ার যাত্রায় বাংলা ভাষার চর্চা আরো বৃদ্ধি হওয়া দরকার৷ অফিস আদালতের ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ব্যনার, ফেস্টুন সাইনবোর্ডে ইংরেজির পরিবর্তে বাংলা ব্যবহার আবশ্যক হওয়া উচিত। সবক্ষেত্রে বাংলা ভাষায় ব্যবহারের প্রাধান্য নিশ্চিত করা গেলে, মাতৃভাষায় সর্বজনীন শিক্ষা প্রদান করা গেলে এবং ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আগামী প্রজন্মকে গড়ে তুলতে পারলেই সার্থক হবে ভাষা শহীদদের মহান আত্মত্যাগ।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী রাফিজ খান বলেন, একুশের চেতনাকে মনেপ্রাণে লালন করে তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও দেশীয় সংস্কৃতিতে অনুপ্রাণিত হতে হবে। একইসঙ্গে সর্বস্তরে শুদ্ধভাবে বাংলা ভাষা চর্চা ও প্রয়োগের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বায়নের এ যুগে অন্য ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা ও ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করতে হবে। তবেই সালাম, বরকত, রফিকদের মতো দেশপ্রেমিক শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষিত হবে; বাস্তবায়িত হবে একুশের প্রকৃত চেতনা ও আদর্শ।
.png)
ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তানজিরুল ইসলাম বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষা ও বাঙালি জাতিসত্তার আন্দোলনের প্রতীক। একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের অসাম্প্রদায়িক উদারচিন্তার সমৃদ্ধ আধুনিক বাংলাদেশ গঠনের অফুরান অনুপ্রেরণা। পৃথবীর অন্য কোনো জাতি কল্পনাও করতে পারেনি যে মানুষ মাতৃভাষার জন্যও প্রাণ দিতে পারে। মাতৃভাষার জন্য আত্মত্যাগের এ উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত একমাত্র বাঙালিদের ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে। আর এ ধারাবাহিকতায় আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। জাতির সে সব সূর্য সন্তানের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। মাতৃভাষার মর্যাদা শুধু দিবস পালনের মাঝেই সীমাবদ্ধ না হোক। আমাদের সবার ভাষার প্রয়োগ হোক-শুদ্ধ, পরিশীলিত ও শিষ্টাচার সমৃদ্ধ। একুশ হোক জগতের সব অনৈক্য, অসাম্প্রদায়িক ও অপশক্তির বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ হাতিয়ার। একুশের চেতনার পতাকা সমুন্নত রাখার জন্য নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী জসীম উদ্দীন বলেন, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/আমি কি ভুলিতে পারি।’ না, সত্যি আমি ভুলতে পারি না। আমার ভাইদের রক্তে বিনিময়ে পাওয়া এই বাংলা ভাষা যে ভাষায় মা কথা বলে, তা কি করে ভুলে যাব। আমি আজও বাংলা ভাষার প্রতিটি বর্ণে খুঁজে পাই শহিদদের লাল টকটকে রক্ত এবং সেই বিদ্রোহী স্লোগান ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’। ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ, ভোর রাতে যখন ফুল নিয়ে হাঁটিহাঁটি পা পা করে শহিদ মিনারের দিকে এগিয়ে যাই তখন বুকের বা পাশে মনের অজান্তেই ব্যথা অনুভব হয়, বিনম্র শ্রদ্ধাবোধ চলে আসে শহিদদের প্রতি।