ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

মুক্তমঞ্চ ও ভাস্কর্য স্থাপনের দাবি

সিকৃবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:৫৬, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২
মুক্তমঞ্চ ও ভাস্কর্য স্থাপনের দাবি
টিএসসি ভবনের সামনের জায়গা। যেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন হয় ও সম্ভাব্য মুক্ত মঞ্চের জন্য নির্ধারিত স্থান

২০০৬ সালের ২ নভেম্বর প্রতিষ্ঠাকাল থেকে আজ পর্যন্ত সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) স্নাতক পর্যায়ে মোট ১৪টি ব্যাচ এসেছে। ক্রমান্বয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির আসন সংখ্যা স্বল্প হারে বাড়ানো হলেও বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে শিক্ষার্থীদের বিচরণ তথা আড্ডা, গল্প, গান বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বৃহৎ পরিসরে আয়োজনের জন্য যথেষ্ট জায়গা বৃদ্ধি পায়নি। 

মূল ক্যাম্পাস ৫০ একরের হলেও আশপাশের টিলা, আবাসিক এলাকা এবং অবকাঠামোগুলো বাদ দিলে শিক্ষার্থীদের মুক্ত চলাচল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য যে জায়গা থাকে তা তালিকা আকারে প্রকাশ করলে মাত্র কয়েকটি সংখ্যায় এসে দাঁড়ায়। 

এছাড়াও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনে টিএসসি ভবনের সামনের জায়গা ব্যবহার করতে দেখা যায়, যেখানে জায়গা স্বল্পতায় বরাবর বেগ পেতে হয় আয়োজকদের।

Advertisement

সংস্কৃতি অঙ্গনের পরিচিত মুখ ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী অন্তর দে জানান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়জন করতে গিয়ে পর্যাপ্ত জায়গার অভাব আমাদের। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো মুক্তমঞ্চ নেই। কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হলে স্টেজের সামনে দর্শকদের বসার মতো জায়গার ব্যবস্থা করতে হিমশিম খেতে হয়। বর্তমানে টিএসসিই আমাদের ভরসা। তবে সেখানে জায়গার সংকট। আর সেই পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে একটি মুক্তমঞ্চের প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে টিএসসির সামনে যে বাগান করা রয়েছে অথবা বায়োটেকনোলজি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ ভবন- ১ এর সামনে জায়গা আছে। আমরা আশা করি অচিরেই এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে। আমরা একটি সুন্দর গোছানো ক্যাম্পাস চাই। 

স্নাতক শিক্ষার্থী আতিক আশহাব সংলাপ ক্যাম্পাসে ভাস্কর্য নির্মাণের প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে ভাস্কর্য বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির গৌরব বহন করে চলেছে। এর মাধ্যমে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে। প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্বতা তুলে ধরতে ক্যাম্পাসের চত্বরগুলোতে বিভিন্ন ভাস্কর্য রয়েছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ব্যাপারটি খুব অনুভব করি। এছাড়া ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক হিসেবে বড় নান্দনিক গেট নির্মাণের প্রয়োজনের কথাও তিনি তুলে ধরেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতো তারা নিত্য আড্ডা-গল্প-গান-সংস্কৃতি চর্চায় মেতে থাকতে চান। এতে পড়াশোনার একঘেয়েমি কিছুটা হলেও কাটবে বলে উল্লেখ করেন। আর সেই সুযোগ করে দিতে সিকৃবি প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান সবাই।

মুক্তমঞ্চের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দফতরের পরিচালক প্রফেসর ড. মোস্তফা সামসুজ্জামান জানান, মুক্তমঞ্চ নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। এরইমধ্যে আমরা মুক্তমঞ্চের ব্যাপারে আলোচনা করেছি। অচিরেই হয়তো সিকৃবি শিক্ষার্থীরা টিএসসি ভবনের সামনের জায়গাটিতে মুক্তমঞ্চের বাস্তবিক রূপ দেখতে পারবে। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রসাশন নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়াও উপাচার্য এ ব্যাপারে অবগত আছেন।

প্রকৃতপক্ষে, বিশ্ববিদ্যালয় হলো অধ্যয়ন, গবেষণানির্ভর ও মুক্ত জ্ঞান চর্চার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কোনো অঞ্চলের প্রয়োজনভিত্তিক জ্ঞানচর্চা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। এই লক্ষ্য পূরণে শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। আর তাই শিক্ষার পাশাপাশি মুক্ত চিন্তা ও সাংস্কৃতিক চর্চার পরিবেশ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। সার্বিক দিক বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে জায়গা সঙ্কট সমাধানের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত মুক্তমঞ্চ ও ভাস্কর্য স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করবে এমনটাই আশা করছে শিক্ষার্থীরা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!