ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

জবিতে ‘মেয়াদোত্তীর্ণ’ বলে কোনো শব্দ নেই, প্রমাণ ৪ দাফতরিক প্রধান

আহসান জোবায়ের, জবি
প্রকাশিত: ১৮:২৯, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২
জবিতে ‘মেয়াদোত্তীর্ণ’ বলে কোনো শব্দ নেই, প্রমাণ ৪ দাফতরিক প্রধান
ফাইল ছবি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ দফতর চলছে মেয়াদোত্তীর্ণ প্রশাসক দিয়ে। দীর্ঘদিন ধরে এই দফতরগুলোর পরিচালকের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য এসে নতুন কাউকে নিয়োগ দেননি। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা মহলে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে নতুন পরিচালক নিয়োগের দাবি জানালেও কোনো সাড়া মিলেনি। 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দফতরের পরিচালক একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মো. নাসির উদ্দীনের নিযুক্তির মেয়াদ গত বছরের ২২জুনে শেষ হয়েছে।

এরপর নতুন পরিচালক নিযুক্ত না করে আবার সহযোগী অধ্যাপক কাজী মো. নাসির উদ্দীনকে ২০২১ সালের ২৩ জুলাই পুনরায় অনির্দিষ্টকালের জন্য অর্থ ও হিসাব দফতরের পরিচালক হিসাবে নিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি পরবর্তী পরিচালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। কাজী মো. নাসির উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারের আস্থাভাজন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

Advertisement

একই অবস্থা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দফতরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোস্তফা কামালের নিযুক্তির মেয়াদ ২০২১ সালের ২৪ জুলাই শেষ হয়েছে।   এরপর তাকে পুনরায় ২০২১ সালের ২৫ জুলাই পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের প্রশাসক হিসেবে গত ২০ জুলাই ২০১৭ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন প্রানিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ। ২০ জুলাই ২০১৯ সালে তার দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হলে নতুন কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। তাকেই আবার পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত  ২৫ আগস্ট ২০১৯ থেকে তাকে পুনরায় পরিবহন প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়। 

গত বছরের ১৪ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দফতরের পরিচালক বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাসের দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হলে ১৫ মার্চ উক্ত পদে দফতরের  উপ-পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম কে পরিচালক পদে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী দফতর প্রধান হিসেবে  শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও তার পরিবর্তে একজন কর্মকর্তা দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি দপ্তরে কম্পিউটার সায়েন্স ইন্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. উজ্জল কুমার আচার্য্য আইটি দফতরের শুরু থেকেই পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। শুরু থেকে একটানা আইটি দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হলেও পুনরায় গত ২ মার্চ ২০২০ থেকে এই শিক্ষককে আইটি দফতরের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যার মেয়াদ চলতি বছরের আগামী ৩ মার্চ শেষ হবে। 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় মনোবিজ্ঞান বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট মেম্বার অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুদ্দীন বলেন, কোন রকমের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া উচিৎ না। মেয়াদ শেষ হলেই নতুন কাউকে পূর্ণ মেয়াদে নিয়োগ দিয়ে দিতে হবে। এর ফলে ভেতরে ভেতরে অনেকের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। আবার অনেকে এসব অতিরিক্ত দায়িত্ব দেখে শিখতেছে পরে তারাও কোন দায়িত্বে গেলে অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়ার জন্য বসে থাকবে। তাই এগুলা এখনই বন্ধ করতে হবে। 

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, এই পদগুলোর দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ায় অতিরিক্ত দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে। যে কোনো সময় রদবদল হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!