রোববার (৬ মার্চ) হাবিপ্রবির প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে সেই ভ্যানিটি ব্যাগ কুড়িয়ে পান হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী সনজিদ কুমার। সেদিন বিকেলেই কুড়িয়ে পাওয়া ভ্যানিটি ব্যাগটি হাবিপ্রবির ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের কর্মকর্তা মো. জাহিদুল রহমান আমিনের নিকট জমা দেন।
তবে অনেক সন্ধান করার পরে মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) খুঁজে পাওয়া যায় প্রকৃত ভ্যানিটি ব্যাগের মালিককে।
.png)
মালিকের পরিচয় কিভাবে খুঁজে বের করলেন এমন প্রশ্নের জবাবে হাবিপ্রবির কর্মকর্তা মো. জাহিদুল রহমান আমিন বলেন, সনজিত ভ্যানিটি ব্যাগটি জমা দেয়ার পর থেকেই আমরা প্রকৃত মালিককে খুঁজতে থাকি। কিন্তু কোনো ভাবেই খোঁজ পাচ্ছিলাম না। পরে ভ্যানিটি ব্যাগের মধ্যে হাবিপ্রবির রুপালি ব্যাংকের একটি ভর্তির রশিদ দেখতে পাই। সেই সূত্র ধরেই প্রকৃত মালিকের নিকট ভ্যানিটি ব্যাগটি হস্তান্তর করা হয়েছে। আমি মনে করি এই মহৎ কাজটি দৃষ্টান্ত হয়ে রইল হাবিপ্রবিতে। অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই সনজিদকে।
এ দিকে প্রকৃত মালিকের কাছে ভ্যানিটি ব্যাগটি পৌঁছে দিতে পেরে খুশি সনজিত কুমার। তিনি বলেন, আমি সব সময় ভালো কাজ করতে ভালোবাসি। ছোটোবেলা থেকেই আমার লক্ষ্য দেশের মানুষের জন্য কাজ করা। সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি প্রকৃত মালিকের কাছে ভ্যানিটি ব্যাগটি হস্তান্তর করতে পেরে। আমার জন্য দোয়া করবেন যাতে আগামীতে আরো ভালো কাজ করতে পারি।
অন্যদিকে, ভ্যানিটি ব্যাগ সংগ্রহ করতে হাবিপ্রবির ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় আসেন জান্নাতারা বেগম হ্যাপীর মেয়ে ফারজানা আক্তার মিম। তিনি হাবিপ্রবির ২০ ব্যাচের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী। ভ্যানিটি ব্যাগ সংগ্রহের পরে তিনি বলেন, প্রায় ১০ দিন অতিবাহিত হওয়ায় আমরা ভেবেছিলাম ভ্যানিটি ব্যাগটি আর পাওয়া যাবে না। তবে টাকার চেয়েও কাগজপত্র অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। আমরা সনজিত ভাইয়ের কাছে অনেক অনেক কৃতজ্ঞ। সেই সাথে ধন্যবাদ জানাচ্ছি হাবিপ্রবির ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের কর্মকর্তা মো. জাহিদুল রহমান আমিন ভাইয়ের প্রতিও। সৃষ্টিকর্তা আপনাদের সকলের মঙ্গল করুক সেই কামনা করি।
ফারজানা আক্তার মিমের বন্ধু মো. জিন্না জামান তুহিন হাবিপ্রবির ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের সহকারী পরিচালক সহকারী অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান ও সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুল মোমিন শেখের কাছ থেকে ভ্যানিটি ব্যাগটি সংগ্রহ করেন। এ সময় সনজিদ কুমারের এমন মহৎ কাজে প্রশংসা করে ধন্যবাদ জানান ভ্যানিটি ব্যাগ হস্তান্তরে উপস্থিত শিক্ষকবৃন্দ।