সবুজ গাছপালার ফাঁকে ফাঁকে ফুটে ওঠা হলুদ, গোলাপি ফুল আর লাল ইটের রাস্তায় বৃষ্টির একেকটি ফোটা যেন মুক্ত দানার মতো ছড়িয়ে পড়ে।
খেলার মাঠগুলোতর তখন শিক্ষার্থীদের ফুটবল নিয়ে দৌঁড়াদৌঁড়ি আর প্রকৃতি প্রেমীদের এদিক সেদিক খুনসুটি। কেউ আবার প্রেমিকার হাতে হাত রেখে ভিজতে ভিজতে কাটিয়ে দেয় এই সুন্দরতম মুহূর্ত।
.png)
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রায়ই বলে থাকে সবচেয়ে সুন্দর বৃষ্টি নাকি এই ক্যাম্পাসেই হয়। এই কথাকে একেবারে ফেলে দেয়ার মতো না। প্রকৃতি যেন দুহাত ভরে দিয়েছে জাহাঙ্গীরনগরকে।

ছয়টি ঋতুতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পুরো বাহারি রূপ ধারণ করে। এখানে ছয়টি ঋতু ভিন্ন ধরনের আর্শীবাদ নিয়ে আসে। একেক সময় ক্যাম্পাসের বৈচিত্র্য একেক রকম। ঋতুরাজ বসন্তের মতো বর্ষা ঋতুও শিক্ষার্থীদের কাছে এক আনন্দের মহামিলন রূপে দেখা দেয়।
বৃষ্টিতে জাহাঙ্গীরনগরের রূপের মাধুর্যতা বেড়ে যায় বহুগুণ। সবুজের মাঝে লাল ইটের দালান বেয়ে নেমে আসে বৃষ্টি। ভিজিয়ে দিয়ে যায় বৃষ্টি প্রেমীদের।
বর্ষার বাহারি ফুলে সাজানো জাহাঙ্গীরনগরের মেঠোপথগুলো। শহীদ মিনার যেন বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া গ্রামের অবাধ্য কিশোরীর প্রতিরূপ। বর্ষায় ভিজে যাওয়া অমর একুশে নতুন কোন এক বিপ্লবের ডাক দেয়। বৃষ্টি ধারা যখন মুক্তমঞ্চের সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসে যেন মনে হয় খৈলাস ঝর্ণা আজ প্রাণ পেয়েছে। তার পাশেই কদম ফুলের গাছ। বৃষ্টি ভিজছে আর বাতাসে দুলছে কদমফুল। এই কদমের জন্য হয়তো কোন এক প্রেমীকার মনও দুলছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকগুলোতে বৃষ্টির নৃত্য যে কারো মনে নাড়া দিবেই। নৌকা নিয়ে নেমে যেতে পারেন বৃষ্টিতে নৃত্যরত লেকে। ঘুরে আসুন লেকের ওপারে। মাথার ছাতা ফেলে ভিজে নেন বৃষ্টিতে। হাত বাড়িয়ে দেন। কেউ হাত ধরলেও ভিজবেন না ধরলেও ভিজবেন। এটা জাহাঙ্গীরনগরের বৃষ্টি। খানিক ভিজে টিএসসিতে বৃষ্টির আড়ালে দাঁড়াবেন? দেখবেন বাগানবিলাস গাছগুলো এখনো ভিজছে। টুপটাপ বৃষ্টির ফোঁটা বেয়ে পড়ছে নিচের সবুজ ঘাসে।
বৃষ্টির চায়ের কথা শুধু শুনেছেন, খাননি কখনো। মনে করেন এসব প্রেমিক-প্রেমিকাদের অসচেতন মনের খেয়ালিপনা। টারজানে চুমুক দিতে পারেন বৃষ্টির চায়ের কাপে। সবুজের বৃষ্টি, লেকের বৃষ্টি, কদম ফুলের বৃষ্টির মিলনমেলা জাহাঙ্গীরনগর। শত ব্যস্ততা আর স্বার্থের এই পৃথিবীতে কিছুটা সময় ব্যয় করতে আসুন জাহাঙ্গীরনগরের বৃষ্টি বিলাসে। জীবনের অর্থগুলো নতুনভাবে খুঁজে পাবেন নিশ্চিত।