ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

থিসিস নকলের অভিযোগে ঢাবি শিক্ষকের পদাবনতি

ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:৫৬, ৩১ আগস্ট ২০২২
থিসিস নকলের অভিযোগে ঢাবি শিক্ষকের পদাবনতি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম লুৎফুল কবীর। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবুল কালাম লুৎফুল কবীরের বিরুদ্ধে পিএইচডি গবেষণা অভিসন্দর্ভ (থিসিস)-এ প্লেজিয়ারিজমের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সহযোগী অধ্যাপক পদ থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদাবনতি করা হয়েছে। 

একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক আশরাফ-উজ-জামান সরকার-এর বিরুদ্ধে ঢাকাস্থ একটি দূতাবাসে বিনা অনুমতিতে পূর্ণকালীন চাকরি করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে বরখাস্ত (Dismissal from service) করা হয়েছে।  

মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। 

Advertisement

সহকারী অধ্যাপক আশরাফ-উজ-জামান সরকারের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের নিকট সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষকের একই সময়ে দুই কর্মস্থলে পূর্ণকালীন চাকরি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং চাকরির বিধিবিধান, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা পরিপন্থী কার্যকলাপ হওয়ায় ট্রাইব্যুনালের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে বরখাস্ত করা হয়। 

সহযোগী অধ্যাপক আবুল কালাম লুৎফুল কবীরের বিরুদ্ধে পিএইচডি থিসিস নকল ও জালিয়াতিসহ গর্হিত ও চাকরিবিধি পরিপন্থী কাজ করার অপরাধে ট্রাইব্যুনালের সুপারিশ অনুযায়ী তাকে পদাবনতি করা হয়। 

জানা যায়, ২০১৪ সালের দিকে ‘টিউবার কিউলোসিস অ্যান্ড এইচআইভি কো-রিলেশন অ্যান্ড কো-ইনফেকশন ইন বাংলাদেশ: অ্যান এক্সপ্লোরেশন অব দিয়ার ইমপ্যাক্ট অন্য পাবলিক হেলথ’ শীর্ষক ওই নিবন্ধের কাজ শুরু করেন আবুল কালাম লুৎফুল কবির। তার এই গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আবু সারা শামসুর রউফ, আর সহ-তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক অধ্যাপক আ ব ম ফারুক। 

সহতত্ত্বাবধায়কেরা একাধিকবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও কোনো কপি জমা দেননি বলে অভিযোগ ছিল লুৎফুল কবীরের বিরুদ্ধে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২০ সালের ২৫ জানুয়ারি একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে আবুল কালাম লুৎফুল কবীরের বিরুদ্ধে চৌর্যবৃত্তির বিষয়ে খবর প্রকাশিত হয়। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে সিন্ডিকেট সভায় ওই শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পাশাপাশি অভিযোগ তদন্তে কমিটি করে দেয় সিন্ডিকেট। ২০২১ সালের ২৮ অক্টোবর শাস্তি দিতে একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। 

এ ব্যাপারে সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, পিএইচডি থিসিস জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সিন্ডিকেট সভায় লুৎফুল কবীরের ডিগ্রি বাতিল এবং পদাবনতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!