শিক্ষার্থীদের দাবি, ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, নম্বার বেশি থাকা সত্ত্বেও মেধা তালিকায় নাম আসেনি। পরীক্ষার পর যারা পাঠ্যবইসহ বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের বই এর প্রশ্ন মিলিয়ে ৭০ এর বেশি আশা করেছিলাম। আমরা আশা করেছিলাম, মেধাতালিকায় স্থান পাব এবং কোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাব। কিন্তু আমরা মেধাতালিকা কিংবা অপেক্ষমাণ তালিকার কোনোটিতেই নাম আসেনি।
তারা স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পরীক্ষার ফলাফলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফল কিভাবে হিসেব করা হয়েছে তা খোলাসা করেনি ভর্তি কমিটি।
.png)
এ সময় যোগ্যদের সুযোগ দেওয়া ও যাচাইকরণে তারা চারটি দাবি উত্থাপন করেন
শেকৃবিতে দেওয়া স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করেন, পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর ও মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক এর ফলাফল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে, পরীক্ষাটির উত্তরপত্র প্রকাশ করতে হবে, পরীক্ষার ফলাফল নির্ণয়ে কোনো ত্রুটি আছে কিনা সে বিষয়ে তদন্ত করে দ্রুত রিপোর্ট পেশ করতে হবে, বর্তমানে চলমান ভর্তি কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করতে হবে কিংবা সময় বাড়িয়ে দিতে হবে।
ছাত্রদের এই স্মারকলিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে গ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হারুন-উর-রশীদ।
স্মারকলিপি গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্টার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
সেখানে জানানো হয়, কৃষিবিজ্ঞান বিষয়ে ডিগ্রি প্রদানকারী ৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান)/স্নাতক শ্রেণির ১০ সেপ্টেম্বর (শনিবার) অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফল নিরীক্ষা করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের আগামী ২০ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) এর মধ্যে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের ২০৪ নম্বর কক্ষে উপস্থিত হয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ফটোকপি এবং নিরীক্ষা ফি বাবদ এক হাজার টাকা জমাদান সাপেক্ষে কৃষিগুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার সদস্য সচিব ও শেকৃবি রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদন করতে হবে। নিরীক্ষা ফলাফল আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের (শনিবার) মধ্যে আবেদনকারীদের জানিয়ে দেওয়া হবে।
ফলাফলের সার্বিক বিষয় নিয়ে কৃষিগুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) উপাচার্য ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া বলেন, ‘কৃষিগুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হতে পারেনি তাদের মধ্যে নানারকম প্রতিক্রিয়া রয়েছে। আমার ধারণা, কিভাবে নম্বর দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে ভুল ধারণা থাকতে পারে। আমরা জিপিএ এর ভিত্তিতে মার্কস দেইনি, আমরা এটা নির্দেশিকাতে বলে দিয়েছি। আমরা নম্বর দিয়েছি, বোর্ড আমাদেরকে যে নাম্বার সরবরাহ করেছে এসএসসি এবং এইচএসসি সেইটাকে আমরা ২৫ এবং ২৫ এ কনভার্ট করেছি। বোর্ডের পরীক্ষায় ১২০০ নম্বরের মধ্যে কেউ কিন্তু ১২০০ পায়নি। ফলে ২৫ পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এইচএসসি এবং এসএসসি উভয় ক্ষেত্রেই এটি সমান। আর আমরা এর সঙ্গে আমাদের পরীক্ষার যে রেজাল্ট সেটি যুক্ত করেছি। তারমানে ২৫ (এসএসসি) এবং ২৫ (এইচএসসি) এ যত পেয়েছে তার সঙ্গে আমাদের পরীক্ষায় যত পেয়েছে তা যুক্ত করে রেজাল্ট দিয়েছি। কারও যদি অনেক নাম্বার থাকে এসএসসি, এইচএসসিতে সে ওখানে বেশি নাম্বার পাবে এবং কম নাম্বার পেয়েও চান্স পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এটি বুঝতে হবে সবাইকে।’
শাহেদ মাহমুদ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়