ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

প্লাস্টিকের বিকল্পে কচুরিপানা ও কলাগাছের আঁশ ব্যবহার

মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৩৮, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২
প্লাস্টিকের বিকল্পে কচুরিপানা ও কলাগাছের আঁশ ব্যবহার
মাভাবিপ্রবির টেক্সটাইল প্রকৌশল বিভাগের ছাত্র দুলাল হোসেন (ডানে) ও শিব্বির হোসেন (বামে)। তাদের সুপারভাইজার সহকারী অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম (মধ্যখানে)। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) কচুরিপানা ও কলাগাছের আঁশ ব্যবহার করে প্লাস্টিকের বিকল্প তৈরি করেছেন টেক্সটাইল প্রকৌশল বিভাগের দুই ছাত্র। ঐ দুই শিক্ষার্থী হচ্ছেন দুলাল হোসেন ও শিব্বির হোসেন। তাদের সুপারভাইজার হিসেবে ছিলেন সহকারী অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম।

সম্প্রতি দুলালের এই গবেষণা জার্নাল অব ক্লিনার প্রোডাকশন–এ প্রকাশিত হয়েছে। এই জার্নালের ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর (প্রভাব বিস্তারকারী মান) ১১.০৭২-এর বেশি। সাধারণত ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর ৩-এর বেশি হলেই সেটিকে ‘অনেক ভালো জার্নাল’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

প্লাস্টিকের বিকল্প তৈরি করে দুলাল হোসেন ডেইলি বাংলাদেশকে তার গবেষণার বিষয়ে বলেন, ‘এটি মূলত আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ও অস্ট্রেলিয়ার ডিকিন ইউনিভার্সিটির গবেষকদের একটি যৌথ প্রকল্প। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই আবু নাসের আহসানুল হক সেখানে গবেষণায় যুক্ত আছেন। এছাড়া ডিকিন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মারিয়াম নায়েবি আমাদের কাজের ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছেন। তারাই আমাদের জানিয়েছেন, গবেষণায় যত রকম সাহায্য লাগে তারা করবেন।’

Advertisement

দুলাল আরো বলেন, ‘ভেবে দেখুন, প্লাস্টিক যদি কচুরিপানার মতো পচে মাটির সঙ্গে মিশে যেত, তাহলে পরিবেশের কতো উপকার হতো। ২০১৮ সাল থেকে আমরা এই প্রকল্প নিয়ে কাজ করছি। আমার ইচ্ছা আছে, ভবিষ্যতে আমাদের উদ্ভাবনটিকেই প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে দাঁড় করানোর। যেহেতু কচুরিপানা হতে প্রচুর পরিমাণে সেলুলোজ পাওয়া যায়, এটি সহজলভ্যও বটে।’

গবেষণার সুপারভাইজার সহকারী অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা প্রজেক্ট পাওয়ার পর থেকে কাজ শুরু করি। কাজ শুরু করার পরে আমরা কলা গাছকে বেছে নিই।  কলা গাছের ফাইবার কালেক্ট করি।  পাশাপাশি আমরা কচুরিপানার ফাইবার কালেক্ট করি। তারপরে আমরা ফাইবার থেকে বিভিন্ন ডাইমেনশনে বিভিন্ন থিকনেসে আমরা পেপারগুলো তৈরি করি যাতে খাদ্য প্যাকেজিংয়ে গাছের বিকল্পে এটিকে ব্যবহার করা যায়। ২০১৯ সালে কাজ শুরু করলেও করোনাকালীন সময়ে আমাদের কাজ বন্ধ ছিল। তখন আমরা স্যাম্পলটা পরীক্ষার জন্য দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিই। আমরা ফুড প্যাকেজিংটাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি৷ যাতে ক্যান্সার উৎপাদকের কোনো উপাদান ওখানে না থাকে।’ 

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!