সোমবার দুপুরে ফলাফল প্রকাশের পর তার বাড়ি ও কর্মস্থলে হইচই পড়ে যায়। গোলাপী বেগমের বাড়ি কুড়িগ্রাম পৌরশহরের তালতলা গ্রামে। তিনি কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের একজন ভাতাপ্রাপ্ত কর্মচারী। তার স্বামী লুৎফর রহমান কুড়িগ্রাম পৌরসভার ভাতাপ্রাপ্ত কর্মচারী হিসেবে কর্মরত।
জানা গেছে, গোলাপী বেগমের জন্ম তারিখ ৩ মার্চ ১৯৮৫ সাল। ঐ হিসাবে তার বর্তমান বয়স ৩৭ বছর। ২০০২ সালে তিনি এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। কিন্তু পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে নবম শ্রেণিতে পড়াকালীন বিয়ে হয়ে যায়। স্বামীর বাড়িতে গিয়ে আর পড়ার টেবিলে বসা হয়নি তার।
.png)
অভাবের সংসারে স্বামীর সঙ্গে হাল ধরতে ২০১৬ সালে গোলাপী বেগম কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে ভাতাপ্রাপ্ত কর্মচারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। তখন তিনি শিক্ষার গুরুত্ব আরো মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেন। কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মীর্জা মো. নাসির উদ্দিনের অনুপ্রেরণায় আবার পড়ালেখা শুরু করেন। ২০২০ সালে কুড়িগ্রাম কামিল আলিয়া মাদরাসায় ভোকেশনাল কোর্সে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন। ২০২২ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি দাখিল পাস করেন।
গোলাপী বেগম বলেন, ফলাফলের দিন সকাল থেকে মনটা ছটফট করছিল। আমি কলেজে ছিলাম, কলেজের ইংরেজি বিভাগের কম্পিউটারে আমার রোল দিয়ে জানতে পারি পাস করেছি। এই বয়সে এসেও যে এসএসসি পাস করতে পারব কখনো ভাবিনি। খুব ভালো লাগছে। অধ্যক্ষ স্যারের অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতা ছাড়া এটা সম্ভব হতো না। চাকরিতে কোনো বাধা না এলে আমার ইচ্ছে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও মাস্টার্স সম্পন্ন করব।
তিনি আরো বলেন, এসএসসি পাসের খবর শুনে আমার স্বামীও খুব খুশি।
কুড়িগ্রাম কামিল আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. নুর বখত বলেন, ৪০ বছর বয়সের যে কোনো শিক্ষার্থী ভোকেশনালে ভর্তি হতে পারেন। এ বছর আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ভোকেশনাল কোর্সে ৪৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৩১ জন পাস করেছে। গোলাপী বেগম তাদের একজন। তার রেজাল্ট ভোকেশনাল কোর্সে সবার থেকে ভালো।
কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মীর্জা মো, নাসির উদ্দিন বলেন, গোলাপী বেগম এ কলেজের ভাতাপ্রাপ্ত কর্মচারী। আমি শুনেছি নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় তার বিয়ে হয়। লেখাপড়ার প্রতি তার অতি আগ্রহের কথা জানতে পেরে আমি তাকে উন্মুক্ত কোর্সে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেই। ২০২২ সালের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ- ৪.৯৩ পেয়ে পাস করেছেন তিনি।