ঋতুচক্রে অন্য পাঁচটি ঋতু হতে ক্যাম্পাসে শীতকাল ধার দেয় আলাদাভাবে। রুক্ষতা, তিক্ততা ও বিষাদের প্রতিমূর্তি হয়ে আসে শীত। প্রকৃতি হয় বিবর্ণ, বিরাজ করে রুক্ষতা। অধিকাংশ গাছের পাতা ঝরে পড়তে থাকে। কুয়াশাচ্ছন্ন সমগ্র প্রকৃতি, শিশিরসিক্ত রাস্তাঘাট কিংবা হিমেল বাতাস নিয়ে আসে ভিন্ন রূপ। কর্মমুখর প্রকৃতি যেন থমকে দাঁড়ায়।

.png)
কাক ডাকা ভোরে এখানকার শিক্ষার্থীদের ঘুম ভাঙ্গে পাখির কিচিরমিচর শব্দে। কনকনে শীতে গায়ে চাদর জড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের টুকিটাকি চত্বর, পরিবহন মার্কেট, আমতলায় ও ক্যাম্পাসের আশেপাশে বিভিন্ন চা স্টলে জমে উঠে আড্ডা। চায়ের কাপের টুং টাং শব্দে হাসি, আনন্দ, গান, আড্ডায় সঞ্চার হয় নতুন প্রাণের।

শীতের কুয়াশা ভেজা ভোরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয় প্যারিস রোড, পশ্চিমপাড়া, বধ্যভূমি, ইবলিশ চত্বর। শীতের সকালের কনকনে ঠাণ্ডা আর ঘন কুয়াশায় সবকিছু জড়সড় হয়ে আসে। সামনের কোনো কিছুই দেখতে পাওয়া যায় না। সবকিছু যেন অস্পষ্ট মনে হয়। কখনো কখনো কুয়াশার স্তর এত ঘন থাকে যে, দেখলে মনে হয় সামনে কুয়াশার পাহাড় দাঁড়িয়ে আছে।

এসময় হাজারো পাখির আগমন ঘটে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে। শীতের আগে থেকেই তারা আসতে শুরু করে। তাদের কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত হয় পুরো বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিবারের মতো এবারও এসেছে তারা, তবে অন্যান্য বারের তুলনায় সংখ্যায় অনেক কম।

শীতকালে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ধরনের ফুল ফোটে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- গাঁদা, গোলাপ, চন্দ্রমল্লিকা, সূর্যমুখী, তাজমহল, বিশ্বসুন্দরী, মোরগ জুটি, জিনিয়া, দোপাটি, জুঁই, চামেলি, টগর, জবা প্রভৃতি ফুল শোভাবর্ধন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি আবাসিক হল, অ্যাকাডেমিক ভবন, রাস্তার পাশে শোভা পাচ্ছে এসব ফুল। ইবলিশ চত্বরের পুকুর, জোহা হলের পুকুর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সংলগ্ন জলাশয়ে ফুটেছে শাপলা। এছাড়াও কৃত্রিমভাবে টিএসসিসির সামনে লাগনো পানির ট্যাংকে ফুটেছে লাল পদ্ম।

শীতকালে দেশে নবান্ন উৎসবের প্রচলন রয়েছে। এটা থেকেও বাদ যায় না রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে পিঠার দোকান। দোকানগুলোতে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত তৈরি হয় পিঠা। গরম গরম ভাপা, পাটিসাপটা, চিতই পিঠা আর নানান স্বাদের ভর্তায় চলে পিঠা খাওয়ার ধুম। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসি চত্বরে জমে পিঠা আড্ডা।

শীত আগমনে ক্যাম্পাসে থাকে খেলাধুলার নানা প্রস্তুতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহার হল, মাদার বখশ হল, শহিদ জিয়াউর রহমান, আমীর আলী হল, শাহ্ মখদুম হল, নবাব আবদুল লতিফ হলের সামনে ছাড়াও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনে এবং খোলা জায়গায় ব্যাডমিন্টন কোর্টে গভীর রাত পর্যন্ত খেলা চলে। এছাড়াও মেয়েদের প্রতিটি আবাসিক হলের ভেতরে রয়েছে ব্যাডমিন্টন খেলার ব্যবস্থা।

সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষার্থী মরিয়ম আক্তার বলেন, শীত আমাদের কাছে খুব অল্প সময়ের জন্য আসে। শীতের পাখির মতো শীতও আমাদের কাছে অতিথি। কিন্তু এই অল্প সময়ে শীত প্রকৃতিতে যে সৌন্দর্যের লীলা সৃষ্টি করে তা অতুলনীয়। শীতের স্নিগ্ধ কুয়াশা আমার মনকে মুগ্ধ করে। শীতের আমেজ যেন প্রকৃতিতে নিয়ে আসে সৌন্দর্যের মেলা। এককথায় বলা চলে, ‘রাবির শরীরে কুয়াশার চাদর, শীতের ডালি করে আদর’।