ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

জীবন্ত রাজু ভাস্কর্য, নবনির্মাণের আবেদন তৈরি করেছে তিতুমীরে

তিতুমীর কলেজ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:৩৮, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
জীবন্ত রাজু ভাস্কর্য, নবনির্মাণের আবেদন তৈরি করেছে তিতুমীরে
সোনার বাংলার কাদামাটি মেখে তারা হয়ে উঠেছেন জীবন্ত রাজু ভাস্কর্য। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

হালকা শীতের সকালে সোনার বাংলার কাদামাটি মেখে তারা হয়ে উঠেছেন জীবন্ত রাজু ভাস্কর্য। কেউ হয়েছেন মুনীম, কেউ হয়েছেন শিলু, তুহিন, আব্দুল্লাহ, তাসফির কিংবা কিবরিয়া। এভাবেই তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণের রাজু ভাস্কর্যের ছয় জনের অবয়ব ফুটিয়ে তুলেছেন তিতুমীর কলেজে।

জীবন্ত ভাস্কর্য তৈরি করে তারা উপস্থিত সবাইকে ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন ১৯৯২-এ। ১৯৯২ সালের ১৩ মার্চ গণতান্ত্রিক ছাত্র ঐক্যের সন্ত্রাস বিরোধী মিছিল চলাকালে সন্ত্রাসীরা গুলি করলে মিছিলের নেতৃত্বদানকারী বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা মঈন হোসেন রাজু নিহত হন। রাজুসহ সন্ত্রাস বিরোধী আন্দোলনের সব শহিদের স্মরণে নির্মিত এই ভাস্কর্য। ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য এ. কে. আজাদ চৌধুরী উদ্বোধন করেন এটির উদ্বোধন করেন।

Advertisement

অতীতের সেই শিহরণ জাগানো স্মৃতি থেকে বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার যেমন খুশি তেমন সাজোতে অংশগ্রহণ করে তারা এমনটা সেজেছেন। ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হওয়ায়, ভাষার মাসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তারা হয়ে উঠেছেন জীবন্ত রাজু ভাস্কর্য।

ভাস্কর্যের অবয়ব তৈরির মধ্যে রয়েছে- সরকারি তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল জিহাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক দুলাল মিয়া, ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক তাহসিনা অতিথি, সহসভাপতি ফজলে রাব্বি ও ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক নবীন ইসলাম রাজ।

তবে তাদের এই ভিন্নধর্মী এক আয়োজনে কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ভিন্ন পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। কেউ প্রশংসা করছেন তো কেউ বলছেন আমাদের কলেজেই এমন একটি রাজু ভাস্কর্যের ন্যায় একটি ভাস্কর্য তৈরি করা উচিত। যেন শিক্ষার্থীরা সব সময় এই ভাস্কর্য দেখে উদ্বুদ্ধ হতে পারে। এছাড়াও তারা কলেজের এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে প্রথম প্রথমস্থান অধিকার করেছেন।

রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার যেমন খুশি তেমন সাজোতে অংশগ্রহণ করে তারা এমনটা সেজেছেন। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জীবন্ত এই রাজু ভাস্কর্যে প্ল্যাকার্ড গলায় ঝুলিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন সরকারি তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল জিহাদ। 

তিনি বলেন, যেহেতু ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে এই বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হচ্ছে এজন্য ভাষার মাসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই চিন্তা আমার মাথায় এসেছে। পরবর্তীতে আমরা সবাই মিলে আলোচনায় বসে এবং রাজু ভাস্কর্য তৈরির পরিকল্পনা করি। আমরা প্রতিযোগিতার আগের দিন রাতে রাস্তার কাজের মাটি সংগ্রহ করে ভিজিয়ে রাখি এবং পরের দিন নরম কাদায় পরিণত হওয়ায় কাজটি আরো সুবিধা হয়।

তিনি আরো বলেন, প্রতিনিয়ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে এই সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য আমরা দেখি, উদ্বুদ্ধ হই। দেশে যাতে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের ঠাই না হয় এজন্য আমাদের কলেজের ৫৮ হাজার শিক্ষার্থীদের এই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমরা এমনটা সেজেছি। এছাড়াও আমাদের কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. রিপন মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক জুয়েল মোড়ল সহযোগিতা করেছেন।

কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ফজলে রাব্বি বলেন, আমরা চাই শিক্ষার্থীরা সব সময় সন্ত্রাসবিরোধী মনোভাব পোষণ করুক। ছাত্রছাত্রীরা দেশের যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে সবার আগে এগিয়ে আসে। আর শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন একটি উদ্বুদ্ধকরণ পরিকল্পনা তুলে ধরতে পেরে আমার অনেক ভালো লেগেছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!