জানা যায়, নবীনতম ব্যাচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬তম ব্যাচ। তাদের অরিয়েন্টেশন হয়েছে এ বছর জানুয়ারির ৩১ তারিখ। তবে নবীনবরণের একমাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত একটিও র্যাগিংয়ের অভিযোগ পায়নি বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসন।
এ বিষয়ে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৭তম সিন্ডিকেটে আমাদের ক্যাম্পাসে র্যাগিং নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সবার কাছে আমাদের র্যাগিংবিরোধী বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
.png)
র্যাগিংয়ের বিষয় উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. উজ্জ্বল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিং ঠেকাতে হাইকোর্টের নির্দেশ মোতাবেক একটি অ্যান্টির্যাগিং সেলও রয়েছে। পদাধিকারবলে এই সেলের প্রধান প্রক্টর নিজেই, অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্র নির্দেশনা ও পরামর্শ দফতরের প্রধান এবং সবকটি হলের প্রভোস্ট।
‘কোনো ধরনের দৈহিক ও মানসিক পীড়ন, যে কোনো ধরনের অশোভন আচরণ, কারো অধিকারে হস্তক্ষেপ, কর্তব্যকর্ম থেকে বিরত রাখার চেষ্টা, মতপ্রকাশে বাধাদানের মত কোনো ঘটনা ঘটলে সেটিকে র্যাগিং হিসেবে বিবেচনা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবে এন্টি র্যাগিং সেল কমিটি।’, যোগ করেন প্রক্টর।
র্যাগিং ঠেকাতে ছাত্র উপদেষ্টা ও পরামর্শ দফতরের থেকেও নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। দফতরের প্রধান অধ্যাপক ড. তপন কুমার সরকার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের আগমনের আগে থেকেই আমরা অ্যান্টি র্যাগিং প্রচারণা শুরু করেছি। প্রত্যেকটি বিভাগের সঙ্গে আলাদাভাবে যোগাযোগ করা হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে অন্যান্যবার কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেও এবার এমন কোনো ঘটনা আমাদের নজরে আসেনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান বলেন, ক্যাম্পাসে আসার আগে ‘নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিং’ লিখে গুগলে সার্চ করেছিলাম। বেশকিছু নিউজ দেখে আঁতকে উঠেছিলাম। অনেক ভয়ে ছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত এধরণের কোনো পরিস্থিতির শিকার হইনি। এমনকি আমার কোনো বন্ধু এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছে বলে শুনিনি। ক্যাম্পাসে চলাফেরা করতে অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি।
তবে ক্যাম্পাসের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. সায়েদুল ইসলাম বলেন, ‘এমন ঘটনা একেবারে যে ঘটেনি এটি বলা ঠিক নয়। মারাত্মক পর্যায়ে তেমন ঘটনা হয়তো ঘটেনি, তবে টুকটাক র্যাগিং হয়েছেই। হয়তো নানা কারণে সেগুলোর কোনো অভিযোগ তারা প্রশাসন বরাবর দেয়নি।’