এই তো কদিন আগেও মাঠে আনাগোনা ছিল ব্যাট আর বল হাতে, আজ সেখানে ভিন্ন চিত্র। সবুজ ঘাসের বুক চিরে শীতল পাটি কিংবা পত্রিকার ছেড়া অংশ বিছিয়ে গুটিসুটি হয়ে সবাই বসে ইফতার নিয়ে। সবার সামনে সাজানো আছে বাহারি রকমের ইফতার সামগ্রী। শরবত, ছোলা, পেঁয়াজু, আলুর চপ, ঘুগনি, বেগুলি, কলা, শশা, বরিন্দ্রা, খেজুর ও জিলাপি। এভাবে ইফতারির প্রস্তুতি চলছে নিত্যদিনে ববির প্রাঙ্গণে।

.png)
জীবনানন্দ দাশের প্রাণের ভূমিতে অবস্থিত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষার্থীরা সারাদিনের কর্ম ব্যস্ততার ফাঁকে সবাই ছুটে আসে এই প্রান্তবন্ত আমেজের খোঁজে, আর তখন একে অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেয় ইফতারির মাধ্যমে। কেউ কারো প্লেটে ছোলা দেয় তো কেউ কারো প্লেটে আলুর চপ বা ছোলা। আবার কেউ কেউ গলা ভিজানোর জন্য দেয় বাহারি রঙের শরবত।

শত ব্যস্ততার পরও পরিবার ছেড়ে এই চৈত্রর খরতপ্ত দিন শেষে সবাই এই বন্ধনের মধ্যে যেন খুঁজে ফেরে একটুকরা প্রশান্তি। ৫৩ একরের এই ছোট্ট মরুর বুক চিরে এ যেন এক সবুজ গালিচা। মাঠের কোথাও সাংস্কৃতিক সংগঠনের আয়োজন, কোথাওবা সামাজিক সংগঠনের আয়োজন। আবার কোথাও জেলা কিংবা বিভাগভিত্তিক ছাত্র সংগঠনের আয়োজন। দিনশেষ এখানে যোগ দিয়েছেন জাতি-বর্ণ-ধর্ম নির্বিশেষে সবাই, যেন সবাই মিলে একটি পরিবার।
_1680090454.jpg)
ক্যাম্পাসের ইফতার- এ যেন এক ভিন্ন প্রশান্তি। এ প্রসঙ্গে মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মিলন সরদার বলেন, সত্যিই অনেক ভালো লাগা কাজ করে। সিনিয়র-জুনিয়র সবাই একসঙ্গে এক জায়গায় বসে ইফতারি করা। আর এই সবকিছু আমাদের যেমন ভালবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করে তেমনি উপভোগও করেছি।

একাউন্টিং বিভাগের মাস্টার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ বলেন, ক্যাম্পাসে আর মাত্র ছয় মাসের মতো অবস্থান করব। হয়তো ছাত্র হিসেবে এটাই আমার ক্যাম্পাসে শেষ ইফতার। তাই যতোটুকু সম্ভব এই সময়টা উপভোগ করছি। রোজায় ক্যাম্পাসে আলাদা একটা আমেজ কাজ করে। একসঙ্গে ইফতার, রাতে সবাই সবাইকে ডাকাডাকি করছে সেহরি খাওয়ার জন্য। ক্যাম্পাস ছেড়ে গেলে এই রোজার দিনগুলো ভীষণভাবে মনে পড়বে।
