ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

মন কাঁদবে পরিবারের জন্য, তবুও কর্মস্থলেই কাটবে তাদের ঈদ

জাকির হোসেন, ববি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৪৯, ১৭ এপ্রিল ২০২৩
মন কাঁদবে পরিবারের জন্য, তবুও কর্মস্থলেই কাটবে তাদের ঈদ
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব সবাই যখন ঈদের খুশি ভাগাভাগিতে ব্যস্ত, পেশাগত কারণে দায়িত্বের বোঝা মাথায় নিয়ে কিছু মানুষ থাকে উৎসব-আনন্দের ঊর্ধ্বে। ঈদ আসলে সবাই ব্যস্ত বাড়ি ফেরা নিয়ে। কিন্তু তারা বাড়ি ফিরতে পারবে না। তাদের কাঁধে যে গুরুদায়িত্ব দেওয়া। কর্মস্থলে থেকে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হয় ঈদের দিনও। 

বলছিলাম বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) নিয়োজিত আনসার সদস্যদের কথা। তাদের ঈদ আনন্দ কাটে পরিবারের বাইরে সহকর্মীদের সঙ্গে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মস্থলে।
 
গান, গল্প, আড্ডায় চারিদিক কোলাহলের সঙ্গে দিন কেটে যেত। শিক্ষার্থীদের হাসি আনন্দ ভাগাভাগির সঙ্গী, সবার কাছে পরিচিত প্রিয় মুখ কারো মামা, কারো চাচা, কারোবা ভাই। সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের ভিড় জমতে শুরু করত এই প্রাঙ্গণে, সকাল থেকে দুপুরের প্রখর রোদ, দুপুর গড়িয়ে বিকেল, বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা-রাতের মতই পালাক্রমে ভাগাভাগি কর চলত তাদের দায়িত্ব। 

সদা কোলাহলপূর্ণই থাকত ববির ৫০ একরের প্রাঙ্গণ কিন্তু হঠাৎ চারিদিক কোলাহল শূন্য নীরব হতে শুরু করেছে। এখন আর তাড়া নেই গেইট খোলার, আসছে না একের পর এক জলপাই রঙের বাসগুলো, নীরবভাবেই কাটছে দিন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১০ হাজার মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব তাদের। সর্বক্ষণ দায়িত্ব পালন করে চলছেন তারা।

Advertisement

ঈদে ক্যাম্পাস শূন্য হতে শুরু করলে তাদের দায়িত্ব আরো বেড়ে যায়। নিভৃতে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। শিক্ষক শিক্ষার্থী পরিচিতজনদের একে একে হাসিমুখে বিদায় দিচ্ছেন। 
পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব সবাই যখন ঈদের খুশি ভাগাভাগিতে ক্যাম্পাস ত্যাগে ব্যস্ত, তখনই স্বপ্নের ক্যাম্পাসটাকে নিরাপত্তার চাদরে আগলে রাখার জন্য বদ্ধপরিকর তারা। পরিবারের বাইরে কর্মস্থলেই এমনভাবেই ঈদ কাটবে তাদের।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দায়িত্বরত আনসার সদস্য বাকি বিল্লার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘পরিবারকে ছেড়ে বাইরে ঈদ করতে কষ্ট লাগে। তারপরও আমাদের দায়িত্ব তো পালন করতে হবে। আমার ছোট ছোট দুটো সন্তান রয়েছে তাদের জন্য খারাপ লাগে। সব মিলিয়ে আমাদের কাজের মধ্যেই আনন্দ খুঁজে নিয়েছি, এই ক্যাম্পাসই এখন আমাদের দ্বিতীয় পরিবার হয়ে উঠেছে।’

ঈদে বাড়ি ফেরা নিয়ে কথা হলে আনসার সদস্য আজিজুর রহমান একটু হতাশ হয়েই বলতে শুরু করলেন, ‘এইখানে এটা আমার প্রথম ঈদ, মন চাই বাড়িতে গিয়ে মায়ের সঙ্গে ঈদ করতে। মায়ে কইছিলো বাড়ি যাবার জন্য। কিন্তু, মাকে মোবাইলে বলছি এবার আমার ছুটি নেই ঈদে! আসা হবে না। অত্যন্ত কষ্টে মাকে বলছিলাম, ছুটি না থাকলে যাওয়া যায় না! ঝামেলা হয়।’

প্রসঙ্গত, বর্তমানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ২২ জন আনসারকর্মী নিরাপত্তার দায়িত্বে কাজ করছেন। এর মধ্য প্রতিমাসে মাসিক ছুটির অংশ হিসেবে চারজন ছুটি পান। সে অনুযায়ী ঈদেও চারজন সদস্য ছুটি পাবেন। আনসার সদস্যদের দায়িত্বের দায়বদ্ধতা ও ত্যাগই মনে করিয়ে দেয়, মানুষ একে অপরের জন্য। কেউ একজন সুখ পেতে হলে অপর আরেকজনকে ত্যাগ করতেই হবে।
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!