জানা যায়, সম্প্রতি রংপুরের আর.সি.সি.আই পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক সমাপ্ত করেছেন মাসরুর। বর্তমানে স্নাতক ভর্তি পরীক্ষার জন্য ঢাকায় থেকে কোচিং করছেন। এইচএসসি সময় শিক্ষার্থীরা যখন পাঠ্যবইয়ের ইংরেজি পড়তেই হিমশিম খায়, ঠিক সেই সময়ে ইংরেজিতে বই লিখে আলোড়ন তৈরি করেন তিনি। এরই মধ্যে অনলাইন দুনিয়ায় এক বিশাল পাঠকসমাজ গড়ে তুলেছেন। তার লেখা ই-বুকগুলো কিনেছেন প্রায় ১০ লাখ পাঠক।
মাসরুরের লেখা ‘Identity Changes’, ‘Important advice of Lokman Hakim to his son’, ‘A Terribly Beautiful Life’, ‘My Inter Life Story’ বইগুলো এখন অ্যামাজন, গুগল প্লে এবং অ্যাপলের মতো বড় বড় কোম্পানির লেখক দ্বারা প্রত্যয়িত। ফলে মাসরুর গুগলের দৃষ্টিতেও হয়েছেন বাংলাদেশের একজন ভেরিফাইড লেখক।
.png)
কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায়ই মাসরুর চৌধুরী মীদ লিখেছেন তার আলোচিত বইগুলো। এখন বহির্বিশ্বে তার বই নিয়ে চর্চা হয়। তার লেখা মোট পাঁচটি বইয়ের মধ্যে দুটোর হার্ডকপি এরই মধ্যে বাংলাদেশের বাজারে এসেছে। আর সবগুলোই দেশ-বিদেশে বিক্রি হচ্ছে ই-বুক আকারে। দেশে ইংরেজি বইয়ের পাঠক কম থাকায় তিনি সবকটি বই কাগজে-মলাটে বাঁধতে পারেননি।

তবে খুব সহজ ছিল না লেখক হিসেবে যাত্রা শুরুর গল্পটা। তার জন্ম ২০০৫ সালের ১৯ এপ্রিল। শৈশবে সবার মতো হেসে-খেলে পার করেছিলেন জীবন। হঠাৎ একটা ধাক্কা লাগে। তার বাবা মেছবাহুল ইসলাম চৌধুরীর লেখা গল্প, কবিতা, গানের ডায়েরিটা অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে পুড়ে যেতে দেখেছেন। বাবার পুড়ে যাওয়া সেই স্বপ্নগুলোকেই একীভূত করে মাত্র ১১ বছর বয়সে তিনি লেখেন ‘বিদ্যালয়’ নামের একটি কবিতা। সেই কবিতাটি ছিল কিশোর মনে ফুটে ওঠা বিদ্যালয়ের প্রতি ভালোবাসা, অভিযোগ ও সংশোধনের তাগিদ। তখন কবিতাটি কিশোর আলোতে প্রকাশিত হয়। এরপরে পড়াশুনার চাপে বহুদিন লেখালেখিতে তেমন মনোযোগ দেওয়া হয়নি।
কলেজে অধ্যয়নের সময় কিছু ছোটগল্প ও কবিতা লিখেন তিনি। ২০২০ সালে করোনার সময় চলাকালে পুরোপুরিভাবে নিজেকে বই লেখায় ব্যস্ত করেন। বাস্তব অভিজ্ঞতা, যুবকদের সমস্যা-সমাধানের উপায় নিয়ে লিখেছেন মোট পাঁচটি বই।
প্রথম বই ‘Stop being arrogant now’ গুগলের অথর টিম কর্তৃক নির্বাচিত না হওয়ায়, কিছুটা ভেঙ্গে পড়েছিলেন। তবুও থেমে থাকেননি। আরো অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণে লিখেন আরো চারটি বই। যা শুধু গুগলেই নয়, বরং অনলাইনের বড় বড় ১২০টি মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
তার বই সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মানুষের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় কৈশোরকাল। তখনকার সিদ্ধান্তই একজনকে যুবক বয়সে অটুট রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু, বর্তমান যুবসমাজ এদিকে দৃষ্টি না দিয়ে, বন্দি হয়ে আছে অনলাইন নামক কারাগারে। এই কারাগার থেকে বের হয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি। ঠিক এই জায়গা হতে চিন্তা করে, আমি তাদেরকে দিতে চেয়েছি এক অন্যরকম পৃথিবীর স্বাদ। সেখানে তারা নিজের সমস্ত সত্তাকে বিলিয়ে দিবে মনস্তাত্ত্বিক শিক্ষার পিছনে।
তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস সত্যের পথ খুঁজতে গেলেই, একজন জীবনের সঠিক মূল্য উপলব্ধি করতে পারবেন। এই মূল্যবোধ জাগ্রত করাই আমার বইয়ের প্রধান উদ্দেশ্য।’