সাজ্জাদ হাসান ঢাকার খিলগাঁও মডেল কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর এখানেই ভর্তি হন ডিগ্রি পর্যায়ে। বর্তমানে ডিগ্রি ১ম বর্ষের ছাত্র তিনি। চাকরির পিছনে না ঘুরে সাজ্জাদ গড়ে তুলেছেন মুহাম্মাদি আমানত নামকরণে-মিশ্র ফল ও সবজির প্রজেক্ট।
উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে সাজ্জাদ হাসান ভাবতে থাকেন, ঘরবন্দি সময়টা কীভাবে কাজে লাগানো যায়। কোনো কাজে মন বসাতে পারছিলেন না। নিজে কিছু করার কথা ভাবতেন। সব সময় তার গ্রামের কথা, কৃষি ও কৃষকের কথা মনে হতো। ভেতরে ভেতরে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল খামার করার স্বপ্ন। তিনি পত্রপত্রিকায় দেশের বিভিন্ন স্থানের সফল খামারিদের গল্প আগ্রহ নিয়ে পড়তেন। এই ভাবনা থেকে তখন তার মাথায় এলো এভাবে বসে থেকে কোনো লাভ নেই।
.png)
প্রথমে তিনি তার বাড়ির পাশের জমিতে চাষাবাদ শুরু করেন। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করায় খুব ভালো ফলন হয়। এতে তার উৎসাহ বেড়ে যায়। পরবর্তীতে অন্যের জমি ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন ফল ও সবজি চাষ করে চাষাবাদ বাড়াতে থাকেন।
বর্তমানে সাজ্জাদ হাসানের কৃষি প্রোজেক্টে ফল গাছের মধ্যে রয়েছে আম, জাম, পেয়ারা, পেঁপে, লিচু, কলা। এছাড়াও সবজি ক্ষেতের মধ্যে রয়েছে লাউ, মরিচ, টমেটো, বেগুন, পুঁই শাক, লাল শাক, পালন শাক।
_1695294798.jpg)
কৃষি কাজের প্রতি তিনি ছোট থেকেই অনেক আগ্রহী ছিলেন। সেই আগ্রহ আর নিজের অর্জিত শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কৃষি প্রজেক্ট থেকে তিনি ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন। আশেপাশের এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকরাও আসছেন তার এ প্রজেক্ট পরিদর্শনে। তারাও চাকরির পেছনে না ছুটে এ ধরনের প্রজেক্ট করার আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
পড়ালেখার পাশাপাশি কৃষি ভাবনার বিষয় নিয়ে কথা হলে সাজ্জাদ বলেন, তার এই চাষাবাদ দেখে তরুণ সমাজ কৃষিতে আগ্রহী ও সম্পৃক্ত হচ্ছে। এভাবে শিক্ষিত তরুণ সমাজ কৃষি কাজে সম্পৃক্ত হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ কৃষিতে আরো সমৃদ্ধ হবে। আমার খামারের আশেপাশে কৃষকরা কীটনাশক প্রয়োগ করে কৃষিকাজ করেন৷ তবে তাদের মধ্যে কেউ কেউ আমার খামারে এসে সব দেখেশুনে প্রাকৃতিক উপায়ে কৃষিকাজে আগ্রহী হচ্ছেন৷
তিনি বলেন, আমার মতো আরো কোনো তরুণ আধুনিক চাষাবাদে আগ্রহী হলে আমি তার পাশে থাকব, সাহায্য করব।