এ পর্যন্ত তারা চার হাজারের বেশি ব্যক্তিকে রক্ত দান করতে সক্ষম হয়েছেন। বাঁচিয়ে তুলেছেন অনেক মুমূর্ষু রোগীকে। বাঁধন মাভাবিপ্রবি ইউনিট বিনামূল্যে প্রায় ১১ হাজার জনের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করতে সক্ষম হয়। এছাড়াও তারা ক্যাম্পাসে ও বাইরে বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী সংগঠনটির মাধ্যমে বিনামূল্যে রক্ত দিচ্ছে।
২৪ ঘণ্টা মোবাইল ফোনে জরুরি সেবা চালু রেখেছে বাঁধন। তারা বিভিন্ন পোস্টার, ব্যানারে তাদের সংগঠনের প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছে। এছাড়াও ইউনিটটি তাদের কর্মীদের প্রশিক্ষণ সারাবছর ধরেই চালু রাখে। একটি দক্ষ সংগঠন গড়ে তুলতে নিরলস ভূমিকা রেখে চলেছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি।
.png)
বাঁধন, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতির বিজিই বিভাগের ওমর ফারুক জানান, ‘বাঁধন’ এ স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের আমরা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করি। এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমাদের কর্মীরা আরো দক্ষ হয়ে ওঠে এবং নিজেদের কাজ সম্পর্কে আরো ভালোভাবে অবগত হয়। প্রশিক্ষণ আমাদের প্রিয় অনুজদের তাদের নিজের কাজ সম্পর্কে আরো বিশদ ধারণা দিয়েছে যা পরবর্তীতে স্বেচ্ছায় রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কার্যক্রমে আমাদের কাজে আসবে।
বাঁধন মাভাবিপ্রবি ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান বলেন,‘একের রক্ত অন্যের জীবন, রক্তই হোক আত্মার বাঁধন’ স্লোগানকে সামনে রেখে বাঁধনের পথচলা। কিছু মহৎ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে সংগঠনটির জন্ম। স্বেচ্ছায় রক্তদানে উদ্বুদ্ধকরণ এবং বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ জানিয়ে দেওয়া আমাদের মূল লক্ষ্য। রক্তের গ্রুপ জানিয়ে দেওয়ার জন্য প্রয়োজন সুদক্ষ কর্মী। কর্মীদের সুদক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে ব্লাড গ্রুপ নির্ণয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করি। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ও বাইরে বিভিন্ন স্কুল, কলেজে আমরা ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইন পরিচালনা করি।
সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক এফটিএনএস বিভাগের শিক্ষার্থী ইনসানিয়াত বাঁধন বলেন, আমরা স্বেচ্ছায় কাজ করে চলেছি। আমরা বিভিন্ন ক্যাম্পেইন করি। ফলে রক্তদাতাদের ভয় কমে যাচ্ছে ও তারা রক্ত দান করতে উৎসাহিত বোধ করছে।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৭ সালের ২৪ অক্টোবর বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচির মাধ্যমে ঢাবির ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ হল থেকে বাঁধনের যাত্রা শুরু হয়। বাঁধন বর্তমানে দেশের ৭৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ১২টি জোন, ১৪১টি ইউনিট ও ২টি পরিবারের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।