ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

রাবির আয়াতুল্লাহ: ৬৪ জেলা ভ্রমণে আছে নানা অভিজ্ঞতা

আলজাবের আহমেদ, রাবি
প্রকাশিত: ১৮:৪৩, ১৪ অক্টোবর ২০২৩
রাবির আয়াতুল্লাহ: ৬৪ জেলা ভ্রমণে আছে নানা অভিজ্ঞতা
রাবির আয়াতুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর ইচ্ছে ছিল রাজশাহী ও এর আশেপাশের জেলাগুলো ঘুরে দেখার। যাত্রাটা শুরু হয়েছিল দিনাজপুর ভ্রমণের মধ্য দিয়ে। সেযাত্রায় ভ্রমণ শেষে তার ‘ভ্রমণ পিপাসা’ এতোটাই বেড়েছিল যে সিদ্ধান্ত নেন পুরো দেশ ঘুরে দেখার। সফলও হয়েছেন। একে একে দেশের ৬৪টি জেলা ভ্রমণ সম্পন্ন করেছেন। তবে যাত্রাটা খুব সহজ ছিল না। ভিন্ন ভিন্ন স্থানে ভ্রমণকালে বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা ও ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন নিজেই। 

বলছি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী মুহাম্মাদ আয়াতুল্লাহ কথা। ঝালকাঠি জেলার সদর উপজেলায় তার বসতি। বাবা এ. এস. এম. মাছুম বিল্লাহ স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। আয়াতুল্লাহ স্থানীয় একটি মাদরাসায় দাখিল ও আলিম সম্পন্নের পর ভর্তি হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। 

ভ্রমণপিপাসু এই শিক্ষার্থী নিজের মনের তৃষ্ণা মেটাতে ক্যাম্পাস জীবনের পাঁচ বছরে দেশের সবগুলো জেলাতেই ভ্রমণ করেছেন। নিজ দেশ ভ্রমণের পাশাপাশি দুইবার পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও ভ্রমণ করেছেন। যার শুরুটা হয়েছিল ২০১৭ সালের শুরুর দিকে। সেসময় দিনাজপুর ভ্রমণের মাধ্যমে ভ্রমণ যাত্রা শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে দেশের সবকটি জেলা ঘুরে দেখেছেন তিনি। সর্বশেষ গত বছর নেত্রকোণা জেলা ভ্রমণের মাধ্যমে শেষ হয় এই যাত্রা। 

Advertisement

দেশের সবকটি জেলা ভ্রমণকালে বিচিত্র সব ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন আয়াতুল্লাহ। ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশ, সেখানকার মানুষ, তাদের সংস্কৃতি, ভাষা, ধর্মীয় বিশ্বাসসহ বিভিন্ন বিষয় নিজ চোখে দেখেছেন। ভ্রমণকালে সেসব স্থানের মানুষদেরকে সন্তানকে শিক্ষিত করে তোলা, মাদকের ভয়াবহতা, ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের গুরুত্ব, ভ্রমণের গুরুত্ব, শিশু শ্রম বন্ধ করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে জনসাধারণকে জানানোর চেষ্টার পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কাজের সঙ্গেও সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। 

নিজের মনের তৃষ্ণা মেটাতে ক্যাম্পাস জীবনের পাঁচ বছরে দেশের সবগুলো জেলাতেই ভ্রমণ করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রতি মাসে বাসা থেকে যে টাকা পাঠানো হতো, সেখান থেকে কিছু অংশ জমিয়ে রাখতাম। কয়েকমাস জমানোর পর দেখা যেত অনেকগুলো টাকা জমা হতো। ফলে বাসা থেকে অতিরিক্ত টাকা না নিয়ে শুধু মাসের টাকা থেকে কিছু জমিয়েই ভ্রমণ করেছি দেশের সবকটি জেলা। এছাড়া প্রথম বর্ষের পরে কোনো জায়গায় ঘুরতে গেলে সেখানকার বন্ধু-বান্ধব বা পরিচিতজনের বাড়িতেই থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা হয়ে যেত। এতে আমার খরচও অনেকটা কম হতো। 

প্রথম ভ্রমণের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, মাত্র ১ হাজার টাকা নিয়ে দুই বন্ধু মিলে দিনাজপুরে ঘুরতে গিয়েছিলাম। ওখানে গিয়ে প্রথম দিনেই আমাদের টাকা শেষ হয়ে যায়। ফলে দিনাজপুরের অনেক জায়গায় যাওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। এমনকি খাবারের এবং রাজশাহীতে ফিরে আসার টাকাও ছিল না। প্রথম বর্ষে থাকায় এবং পরিচিত মানুষজন তেমন না থাকায় স্থানীয় কারো সহযোগিতা নেওয়ার সুযোগও ছিল না।

ঐ ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি আরো বলেন, টাকা না থাকায় দ্বিতীয় দিনেও না খেয়ে থেকেছি। হেটে-হেটে স্টেশনে আসার পর শুনলাম, সেদিন রাজশাহীতে আসার কোনো ট্রেন নেই। সময়টা ছিল শীতকাল। তখন রাতে স্টেশনেই ঘুমিয়েছি। পরদিন মালবাহী ট্রেনে রাজশাহী পৌঁছেছি। সারাদিন না খেয়ে হাঁটতে হাঁটতে হলে এসে একজনের থেকে ধার করে খাবার খেয়েছিলাম।

বান্দরবানের স্মরণীয় একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, আমিয়াখুম নামে একটা ঝর্ণায় যাওয়ার আগে দেবতা পাহাড় নামে একটা পাহাড় রয়েছে। ওইটা বেশ বড় এবং বেশ উঁচু। সেদিন বৃষ্টির কারণে এবং পাহাড়ে ওঠা-নামার অভিজ্ঞতাও তেমন না থাকায় নামতে গিয়ে আমি পড়ে যাই। সরাসরি নিচে পড়ে গেলে হয়ত মৃত্যু ঘটতে পারত। গাছের সঙ্গে আটকে পড়ায় বেঁচে গিয়েছিলাম সেদিন।

খাবারের বর্ণনায় তিনি বলেন, বান্দরবানের পাহাড়ি মুরগির মাংস এবং আলু ভর্তা দিয়ে জুম চাষের চালের ভাত খুবই মজার ছিল। তাজিংডং দেখতে গিয়েও এগুলো খেয়েছি। ডিম, ডাল আর আলু ভর্তা দিয়ে ভাত খেলে ১৫০ টাকা, সঙ্গে পাহাড়ি মুরগী ২৫০ টাকা নেন।

ভ্রমণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, বিভিন্ন সংস্কৃতি, মূল্যবোধ, মানুষের বিভিন্ন আচার-আচরণ, একেক জেলার মানুষের একেক ধরনের বৈশিষ্ট্য, ইতিহাস, ঐতিহ্য ইত্যাদি জানতে এবং শিখতে আমার মন সবসময় উৎসুক। এছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে শত শত পুরাতন ঐতিহাসিক স্থাপনা। এগুলো দেখাই ছিল আমার মূল লক্ষ্য।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
ট্যাগ: রাবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!