আহত দুজনই ববির বাংলা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তারা হলেন- শান্ত ইসলাম আরিফ ও জাকির হোসেন।
সম্প্রতি ক্যাম্পাস সংলগ্ন ভোলা রোডের ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বেশ সরগরম।
.png)
জানা গেছে, শান্ত ইসলাম আরিফের ছবিতে জাকির হোসেন ‘হা হা’ রিয়েক্ট দেওয়ায় দুজনের মাঝে মেসেঞ্জারে কথা কাটাকাটি হয় এবং একে অপরকে হুমকি দেন। এক পর্যায়ে তারা ভোলা রোডে জাকির ও শান্তর মাঝে মারামারি হয়। এ সময় জাকির হোসেনের মুখমণ্ডলে ঘুষি মারেন শান্ত। আর শান্তর হাতের আঙুলে কামড় দেন জাকির।
প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী বলেন, আমি বাজার করতে গিয়ে দেখি তারা কথা কাটাকাটি করছে। এক পর্যায়ে কিলঘুষি মারছে। সবাই মাইর খাইছে। তবে কী কারণে এমন হয়েছে তা আমি জানি না। পরে শুনি ফেসবুকে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্টকে কেন্দ্র করে তারা মারামারি করেছে। একজন চোখে বেশি ব্যাথা পেয়েছে, আরেকজনের চোখের নিচে রক্ত জমে গেছে।
এ ঘটনায় শান্ত বলেন, জাকির দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে আমাকে উত্যাক্ত করে আসছিল। মঙ্গলবার জাকির পরিকল্পিতভাবে আমার পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেয়। আমি মেসেজ দিয়ে জাকিরকে রিঅ্যাক্ট রিমুভ করার জন্য অনুরোধ জানাই। কিন্ত জাকির রিঅ্যাক্ট রিমুভ না করে আমাকে গালি ও হুমকি দেয়। উসকানি দিয়ে আমার বাসা সংলগ্ন ভোলা রোডে ডেকে নিয়ে যায়। আমার কাছে এসবের স্ক্রিনশট রয়েছে। ভোলা রোড যাওয়ার পর অকথ্য ভাষায় আমাকে গালি দেয়। আমি প্রতিবাদ করলে আমার ওপর আতর্কিত আক্রমণ করে। আত্মরক্ষার জন্য আমিও হিট করি। তখন জাকির আমাকে কামড় দেয়।
শিক্ষার্থী জাকির বলেন, আমি শান্তর একটা ছবিতে ভুলে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দিয়েছিলাম। ও আমাকে সেটা রিমুভ করতে বলেছিল। কিন্তু আমার ফোনে এমবি ছিল না। শুরুতে আমি মশকরা করে বলেছিলাম, তুই আমাকে মারবি? পরে আমি কোথায় আছি তা জানতে চায় শান্ত। তখন শান্তকে বলি, ‘আমি ভোলা রোডে আছি।’ তারপর অল্প সময়ের মধ্যে আসলে, আমি ওরে বন্ধু বলে সম্বোধন করি কিন্তু শান্ত আমার কথা না শুনে চোখে ঘুষি মারে। ঘুষির আঘাতে আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে বেধড়ক মারতে থাকে আমাকে।
ববির বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পম্পা রানী মজুমদার বলেন, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা আমাদের শিক্ষার্থী। তাদের সঙ্গে আমার মৌখিকভাবে কথা হয়েছে। শিগগিরই আমরা বিষয়টির সমাধান করবো।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. আব্দুল কাইউম বলেন, আমাকে সেদিন রাত ১২টার দিকে এক শিক্ষার্থী ফোন করে বলেছিল আমাদের এক শিক্ষার্থী খুব অসুস্থ। অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন। আমি অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়েছিলাম। সকালে জানতে পারি মারামারি হয়েছিল। আমি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কোনো লিখিত বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব। শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় পাশে আছে।