ক্যাম্পাসের রাতের আঁধারে শিউলি ফুলের সুঘ্রাণ পাওয়া যায়। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হতাশা চত্বর ও মুক্তমঞ্চের পাশে এবং মন্দিরের সামনে লাগানো শিউলি ফুলের গাছ অপরূপ ঘ্রাণ ছড়াচ্ছে ক্যাম্পাসের সর্বত্র। সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসে অনেকে ছুটে আসে শিউলির এই ঘ্রাণ নিতে। কারণ, শিউলি ফুল সন্ধ্যার সময় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সুগন্ধে সুবাসিত করে তুলে। প্রতিদিন সকালে গাছের তলায় শত শত শিউলি প্রিয় মানুষের আগমন ঘটছে। ভোরে অনেকে আসেন এই ফুলের সুবাস নিতে। দেখলে যেন মনে হয়, শরতের সকালে ফুলগুলো স্নান করেছে। যে কাউকে সহজে আকৃষ্ট করে এ ফুল। ফুলের এই মুগ্ধতা স্নিগ্ধতা ছড়িয়ে দিতে কেউ এই ফুল কুড়িয়ে গাঁথছেন মালা কেউ আবার ফুল দিয়ে সাজিয়ে লিখছে নিজের নাম, কেউবা প্রিয়তমার নাম৷ কেউ কেউ ফুল কুড়িয়ে দুই হাতে সুগন্ধ নিচ্ছে। কেউ বা বইয়ের ভাঁজে লুকিয়ে রাখে, অনেকে আবার এগুলো সংরক্ষণ করে প্রিয়তমার গলায় পরিয়ে বরণ করে নিচ্ছে৷
_1701198275.jpg)
.png)
শিউলির এমন অপরূপ সৌন্দর্য নিয়ে অনেক কবি-সাহিত্যিক এ ফুল নিয়ে সাহিত্য রচনা করেছেন৷
আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন ‘শিউলি ফুলের মালা দোলে শারদ-রাতের বুকে ঐ এমন রাতে একলা জাগি সঙ্গে জাগার সাথি কই...।”
শিউলি ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইনামুল হক বলেন, শীতের আগমনি গান নিয়ে হানা দেয় শিশির ভেজা হেমন্ত। পারিজাত শিউলি রাজপথ আলোকিত করে সেই শীতের আগমনি বার্তা নিয়ে সুবাসিত করে হেমন্তের আকাশ, সুবাসিত করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসকে। রাতের ক্যাম্পাস ভরে উঠে শিউলির গন্ধে। এখানে ভোর-সকালে পারিজাত শিউলি কুড়াতে কুয়াশা জড়ানো পথ অতিক্রম করে শিক্ষার্থীরা হাজির হয় শিউলিতলায়৷ যা ক্যাম্পাসকে রাঙিয়ে তুলতে বাড়তি মাত্রা যোগ করছে৷
আফসানা আক্তার নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, হেমন্তের এই সকালে শিউলি ফুল ববি ক্যাম্পাসকে সুবাসিনী তার নিজের রূপ, সৌরভ আর লাবণ্য দিয়ে অন্য রূপে সাজিয়ে রাখে। আর আমরা বারবার মুগ্ধ হই এই অভিমানিনীর শুভ্র কোমলতায়!