বাপ্পী লাহিড়ী একাধিক শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন বলে জানিয়েছেন ড. দীপক নামজোসি। তিনি বলেন, অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার (এমন একটি রোগ যা ঘুমের উপর্যুপরি ব্যাঘাত ঘটায়) কারণে মারা গেছেন বাপ্পী লাহিড়ী।
এ রোগে ঘুমানোর সময়ে শ্বাস-প্রশ্বাস অনিয়মিত হয়ে যায়। অর্থাৎ শ্বাস কখনো শুরু হয়, কখনো আচমকা বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন ধরনের স্লিপ অ্যাপনিয়া আছে, তবে সবচেয়ে বেশি যা দেখা যায়, তা হলো অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া।
.png)
আরো পড়ুন>>> বাপ্পী লাহিড়ী থেকে ‘ডিস্কো কিং’ এর জনপ্রিয় যত গান
এ রোগে আক্রান্তের গলার পেশি স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি শিথিল হয়ে যায়। এ পেশি মুখগহ্বরের টাকরা, আল জিভ, জিহ্বা ও টনসিলের মতো অংশগুলোকে ধরে রাখে। ফলে এই পেশির শিথিলতায় শ্বাস নেওয়ার পথটি রুদ্ধ হয়ে আসে ও ঘুমের সময় আচমকা শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা দেখা দেয়।
এ রোগের একটি লক্ষণীয় উপসর্গ হলো সশব্দে নাক ডাকা। এছাড়াও ঘুমের মধ্যেই দম বন্ধ হয়ে আসা, আচমকা ঘুম ভেঙে যাওয়া ও মুখ শুকিয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণও দেখা যায় এই রোগে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ১০ সেকেন্ডের বেশি এমন অবস্থা থাকলে দেহে অক্সিজেনের পরিমাণ বেশ কমে যেতে পারে। অতিরিক্ত ওজন, বার্ধক্য উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, শ্বাসনালীর সমস্যা এই রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় অনেকটাই।
একটি গবেষণা বলছে, অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঘুমের মধ্যে মৃত্যু হওয়ার আশঙ্কা সাধারণ মানুষের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এই রোগের ফলে ঘুমের মধ্যে হ্রদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায় বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
এ ফেব্রুয়ারি মাসেই এ নিয়ে সঙ্গীতের তিন মহাতারকা হারাল ভারত। গত ৬ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে মারা যান লতা মঙ্গেশকর।
করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর গত ১১ জানুয়ারি লতাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। নিউমোনিয়াতেও আক্রান্ত ছিলেন তিনি। প্রথম থেকে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল।