সত্যিই, কষ্ট হচ্ছিল কেকের। শেষ ভিডিও সামনে আসতেই আরো স্পষ্ট হয় সেই কষ্ট। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ঘামে ভিজে আছেন গায়ক। অনুষ্ঠান শেষ করেই হাতের মাইক ফেলে দিয়ে নিজের রক্ষীর হাত চেপে ধরেন। তাকে সঙ্গে সঙ্গে মঞ্চের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। সে সময় একেবারে ক্লান্ত কেকে। সকলকে চোখের জলে ভিজিয়ে চলে গেলেন গায়ক।
মৃত্যুর পর উঠছে অনেক প্রশ্ন। কেন তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়নি! কেন আড়াই হাজার লোকের জায়গায় আট হাজার লোক ঢুকে পড়ল নজরুল মঞ্চে? কেন এসি চলেনি? কেন এই দম বন্ধ কর পরিবেশ তৈরি হতে দিলেন কর্মকর্তারা? এমন নানা প্রশ্ন উঠছে।
.png)
কিন্তু এই প্রশ্ন কি আর ফেরাতে পারবে ভালবাসার কেকে-কে? পারবে না! সব প্রশ্ন হয়েই থেকে যাবে!
পরপর দুদিন কলকাতায় অনুষ্ঠান করেন কেকে। একেবারে সুস্থ মানুষটার এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না কিছুতেই। এই গাফিলতি কেন? তবে মঞ্চে নিজের শেষটুকু দিয়ে গিয়েছেন কেকে। গান গাইতে গিয়ে কষ্ট হচ্ছিল তার। তবুও থামেনি সুর। এমনকি তিনি দর্শককে তার সঙ্গে গাইতেও বলছিলেন। ঠিক যেমন হয় তার আর পাঁচটা প্রোগ্রামে।
প্রতিদিনের মতোই আচরণ করে গিয়েছেন শেষ পর্যন্ত! একবারের জন্যও তার দর্শক বোঝেননি, এতটা কষ্ট সহ্য করে গাইছেন কেকে! এখানেও থেকে যায় প্রশ্ন? জানলে কি মাঝ পথে গান ছেড়ে যেতে দেওয়া হতো কেকে-কে? আর যদিও বা তিনি যেতেন, তখন কি বলা হতো না, টাকা নিয়ে শো করছেন না? কেকে এত কিছু ভাবেননি। কারণ তার কাছে গানটাই সব ছিল। আর শ্রোতারা তার ভগবান।
এ জন্যই শেষ প্রাণ দিয়ে গান গেয়ে গেছেন তিনি। গাইছিলেন, ‘আখো মে তেরি, আজব সি আজব সি আদায়ে’!
গানের মধ্যে দর্শকদের গাইতে বলে মাইক ধরেন কেকে। সকলে গেয়ে ওঠেন। তারপরেই তিনি মেয়ে দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘গার্লস?’ সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত মেয়েরা গেয়ে ওঠেন তার গান। যা শুনে কেকে মঞ্চেই বলে ওঠেন, ‘হায় মর জায়ু এহি পে’!
এরপর আর মাত্র একটা গান। ‘পল’! সব শেষ মুহূর্তে। এই গানের ভিডিও সোশ্যাল মাধ্যমে শেয়ার হচ্ছে! সত্যিই কি কেকের মনের এই কথা, ‘হায় মর জায়ু এহি পে’ শুনে ফেললেন কেউ? কি করে এভাবে মুখের কথা সত্যি হয়ে গেল! এ যেন এক বড় বিস্ময়!
তার চলে যাওয়া সবাইকে কাঁদাচ্ছে! আর তৈরি হচ্ছে এক অলৌকিক মায়া জড়ানো পরিবেশের! কোথায় যে কি হলো! নাকি কাকতালীয়! দিশেহারা হচ্ছে ভক্তদের মন! সত্যিই কেকে, ‘কাল ইয়াদ আয়েঙ্গে ইয়ে পল’!