ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ বিনোদন ]

প্রবীর মিত্র স্মরণে যা বললেন শাবনূর

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৪৭, ৭ জানুয়ারি ২০২৫
প্রবীর মিত্র স্মরণে যা বললেন শাবনূর
প্রবীর মিত্র ও শাবনূর

রুপালি পর্দার নবাব খ্যাত কিংবদন্তি অভিনেতা প্রবীর মিত্র। চারশ সিনেমার অভিনেতা তিনি। সর্বশেষ ৯ আগে গৌতম ঘোষের ‘শঙ্খচিল’ সিনেমায় এ অভিনয় করেছেন তিনি। এরপর আর বড় পর্দায় দেখা যায়নি, সায় দিচ্ছিল না শরীরও।  

এরই মধ্যে গত ২২ ডিসেম্বর শারীরিক জটিলতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ৮৩ বছর বয়সী অভিনেতাকে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। পরে কেবিনে স্থানান্তর করা হলে আবার অবস্থার অবনতি ঘটে। রোববার রাত ১০টা ১০ মিনিটে প্রবীর মিত্রকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। 

কিংবদন্তিতুল্য অভিনেতা প্রবীর মিত্রর মৃত্যুতে শোকাতুর তার সহকর্মীরা। মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ অভিনেতার সহকর্মীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় শোক প্রকাশ করছেন। অনেকই তার সঙ্গে নানান ধরনের স্মৃতির কথা লিখছেন।

Advertisement

প্রবীর মিত্রর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে এক সময়ের ঢাকাই সিনেমার নন্দিত নায়িকা শাবনূর তার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট দিয়েছেন। এতে তিনি লিখেছেন, ‘গতরাতে বর্ষীয়ান কিংবদন্তি অভিনেতা প্রবীর মিত্র মারা গেছেন। এই কিছুদিনের মধ‍্যে আমাদের চলচ্চিত্রের অনেক উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব পরপারে চলে গেলেন। এটা সত‍্যিই মেনে নেয়া যাচ্ছে না। চলচ্চিত্রের এই সংকটকালে তাদের শূন্যস্থান সহজে পূরণ হবার নয়।

১৯৪১ সালের ১৮ আগস্ট চাঁদপুরের নতুনবাজার গুয়াখোলায় মামার বাড়িতে প্রবীর মিত্রর জন্ম। দাদার বাড়ি কেরানীগঞ্জে। পুরান ঢাকায় বেড়ে ওঠা প্রবীর মিত্র স্কুলজীবন থেকে নাট্যচর্চা করলেও অভিনয়ের চেয়ে খেলাধুলার প্রতিই আগ্রহ ছিল বেশি। অভিনেতা হবেন, এমনটা ভাবেননি তিনি। প্রথম বিভাগে হকি খেলেছেন, খেলেছেন ক্রিকেটও।

১৯৬৯ সালে এইচ আকবরের জলছবি চলচ্চিত্রের জন্য প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান প্রবীর মিত্র। চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৭১ সালের ১ জানুয়ারি। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে কয়েকটি চলচ্চিত্রে নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন প্রবীর মিত্র। তবে চরিত্রাভিনেতা হিসেবে কাজ করেই দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছেন বেশি। 

ঋত্বিক ঘটকের তিতাস একটি নদীর নাম ছবির ‘কিশোর’ তার অন্যতম স্মরণীয় চরিত্র। এ ছাড়া ‘জীবন তৃষ্ণা’, ‘সেয়ানা’, ‘জালিয়াত’, ‘ফরিয়াদ’, ‘রক্ত শপথ’, ‘চরিত্রহীন’, ‘জয় পরাজয়’, ‘অঙ্গার’, ‘মিন্টু আমার নাম’, ‘ফকির মজনু শাহ’, ‘মধুমিতা’, ‘অশান্ত ঢেউ’, ‘অলংকার’, ‘অনুরাগ’, ‘প্রতিজ্ঞা’, ‘তরুলতা’, ‘গাঁয়ের ছেলে’, ‘পুত্রবধূ’সহ চার শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন প্রবীর মিত্র।

১৯৭৩ সালে মুসলিম পরিবারের মেয়ে অজন্তাকে ভালোবেসে বিয়ে করেন প্রবীর মিত্র। বিয়ের সময় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন তিনি। নিজের নাম পাল্টে রাখেন হাসান ইমাম। তবে চলচ্চিত্রে প্রবীর মিত্র নামই বহাল থাকে। ২০০০ সালে স্ত্রী মারা যান। প্রবীর মিত্র দুই ছেলে (মিথুন মিত্র, সিফাত ইসলাম) ও এক মেয়ে (ফেরদৌস পারভীন) রেখে গেছেন। সামিউল ইসলাম নামে তার আরেক ছেলে আগেই মারা গেছেন।

গতকাল সোমবার এফডিসিতে শেষবারের মতো প্রবীর মিত্রর মরদেহ আনা হলে তাকে শ্রদ্ধা জানান দীর্ঘদিনের সহকর্মী চিত্রনায়ক আলমগীর, উজ্জ্বল, ইলিয়াস কাঞ্চন, মিশা সওদাগর থেকে শুরু করে এ সময়ের ইমন ও বাপ্পীরা। 

ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় চলচ্চিত্রের বিভিন্ন সংগঠন। জোহরের নামাজের পর এখানেই অনুষ্ঠিত হয় তার প্রথম জানাজা। চ্যানেল আইয়ে দ্বিতীয় জানাজা শেষে বিকেল সাড়ে ৪টায় খ্যাতিমান এই অভিনেতাকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!