ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ বিনোদন ]

শেষ দিনগুলো যেভাবে কেটেছে প্রবীর মিত্রের 

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪:৩১, ৬ জানুয়ারি ২০২৫
শেষ দিনগুলো যেভাবে কেটেছে প্রবীর মিত্রের 
প্রবীর মিত্র। ছবি: সংগৃহীত

রুপালি পর্দার নবাব খ্যাত কিংবদন্তি অভিনেতা প্রবীর মিত্র। চারশ সিনেমার অভিনেতা তিনি। ১৯৬৯ সালে এইচ আকবর পরিচালিত জলছবি সিনেমা দিয়ে বড় পর্দায় আসেন তিনি। চলচ্চিত্রটি ১৯৭১ সালে মুক্তি পায়। সিনেমার বাইরে কিছু করেননি এই শিল্পী।

অভিনয় জীবনে কখনও নায়ক, কখনও ভাই, কখনও নেতিবাচক চরিত্র, কখনও বাবা চরিত্রে অভিনয় করেছেন। অভিনয়ে কখনও ভাটা পড়েনি তার। এমনও হয়েছে- একই সময়ে তিন বা চারটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তিনি তিতাস একটি নদীর নাম, চাবুকসহ কয়েকটি চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। সর্বশেষ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন রঙিন নবাব সিরাজউদ্দৌলা চলচ্চিত্রে।

তবে ঢালিউডের পর্দায় বাংলার নবাব হিসেবে পরিচিতি রয়েছে দুজন অভিনেতার। তাদের একজন কিংবদন্তি অভিনেতা প্রবীর মিত্র। গতকাল রোববার রাতে তার চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে ঢালিউডের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।

Advertisement

গতকাল ইহলোক ত্যাগ করলেও চলচ্চিত্রের সঙ্গে কয়েক বছর আগেই সম্পর্কের ইতি ঘটে প্রবীর মিত্রের। দিন কাটত চার দেয়ালের মাঝে। বয়সের ভারে তিনি ছিলেন ন্যুব্জ। শরীরে বাসা বেঁধেছিল নানাবিধ অসুখ। 

সেই সময় কিংবদন্তি এই অভিনেতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তার মিঠুন মিত্র বলেছিলেন, ‘উনি আগে থেকেই চলাফেরা করতে পারতেন না। এখনো পারেন না। সারাদিন বাসায়ই থাকেন। টিভি দেখেন, পত্রিকা পড়েন। মাঝে মাঝে বই পড়েন। শারীরিকভাবে স্থিতিশীল আছেন।’

শেষের দিকে কথা বলতে হারাতেন ভারসাম্য। এরকম উল্লেখ করে মিঠুন বলেছিলেন, ‘কথাবার্তা বলেন। তবে সেটি ওনার মুডের ওপর নির্ভর করে। যখন ইচ্ছা হয় তখন বলেন। তবে কথা বলতে গেলে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। কানেও কম শোনেন। এছাড়া ডিমেনশিয়া রোগ আছে। সে কারণে মাঝেমাঝে কিছু কথা ভুলে যান।’

তবে মানুষজন চেনার ক্ষমতা ছিল উল্লেখ করে অভিনেতার ছেলে বলেছিলেন, ‘আমরা যারা কাছাকাছি আছি তাদের চিনতে পারেন।’

প্রবীর মিত্র

মিঠুন আরো জানিয়েছিলেন, এফডিসি বা অভিনয়জীবন নিয়ে খুব একটা স্মৃতিচারণ করতেন না অভিনেতা। এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে বলেন এছাড়া না। চলচ্চিত্রের কেউ প্রবীর মিত্রের খোঁজও নিত না বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

গত ২২ ডিসেম্বর থেকে প্রবীণ এ অভিনেতা বেশ কিছু শারীরিক জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। রোববার (৫ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রূপালী পর্দার এই নবাব।

প্রবীর মিত্রর কিছু উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে-  'ফরিয়াদ', 'রক্ত শপথ', 'চরিত্রহীন', 'জয় পরাজয়', 'অঙ্গার', 'তিতাস একটি নদীর নাম', 'জীবন তৃষ্ণা', 'সেয়ানা', 'জালিয়াত', 'মিন্টু আমার নাম', 'ফকির মজনু শাহ', 'তরুলতা', 'গাঁয়ের ছেলে', 'পুত্রবধূ' 'মধুমিতা', 'অশান্ত ঢেউ', 'অলংকার', 'অনুরাগ', 'প্রতিজ্ঞা' ইত্যাদি। নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করে ক্যারিয়ারে শুরু করলেও পরে চরিত্রাভিনেতা হিসেবেই পর্দায় মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন তিনি। দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময়ে অভিনয় করেছেন অজস্র চলচ্চিত্রে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!