ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ প্রবাস জীবন ]

মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের জন্য ই-পাসপোর্টের কার্যক্রম শুরু

আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া
প্রকাশিত: ১৫:২৯, ১৮ এপ্রিল ২০২৪
মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের জন্য ই-পাসপোর্টের কার্যক্রম শুরু
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মালয়েশিয়া প্রবাসীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হয়েছে। চালু হলো ই-পাসপোর্টের কার্যক্রম। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম উদ্বোধন করেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. আব্দুল্লাহ আল-মাসুদ চৌধুরী।

উদ্বোধনের সময় এক শিশুর এনরোলমেন্টের মাধ্যমে শুরু হয় ই-পাসপোর্টের কার্যক্রম। এরপর পাসপোর্ট ও ভিসা উইং-এর কাউন্সিলর মিয়া মোহাম্মদ কিয়াম উদ্দিনের উপস্থাপনায় শুরু হয় আলোচনা সভা।

সভায় সভাপতিত্ব করেন- মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. শামীম আসান।

Advertisement

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. আব্দুল্লাহ আল-মাসুদ চৌধুরী বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণে ই-পাসপোর্ট, ই-গেট ও মানসম্মত ইমিগ্রেশন পরিষেবার বিকল্প নেই।

ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যস্থাপনা প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহম্মদ নুরুস ছালাম বলেন, ই-পাসপোর্ট পৃথিবীর সর্বাধুনিক প্রযুক্তি। আপনারা ই-গেট দিয়ে সহজেই  ইমিগ্রেশন পার হতে পারবেন কোনো ঝামেলা ছাড়াই।

মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. শামীম আহসান বলেন, মালেয়শিয়ায় ই-পাসপোর্ট চালু হওয়ায় ডিজিটাল বাংলাদেশ আরো বেশি সার্থক হয়েছে। প্রবাসীদের সেবার ব্যাপারে সবসময় আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা থাকবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খাস্তগীর, হাইকমিশনের ডিফেন্স উইং কমোডর মো. হাসান তারিক মণ্ডল, কাউন্সিলর (শ্রম) মো. শরিফুল ইসলাম, কাউন্সিলর (রাজনৈতিক) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য, দূতালয় প্রধান ফারকানা আহমদ চৌধুরী, বিএমসিসিআইয়ের পরিচালক মাহবুব আলম শাহ, কাউন্সিলর (কন্স্যুলার) মুর্শেদ আলম, প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) প্রণব কুমার, প্রথম সচিব (শ্রম) সুমন চন্দ্র দাস প্রমুখ।

শুক্রবার থেকে কার্যক্রম শুরু করার জোর প্রচারণা চালালেও একদিন আগেই শুরু হয় আবেদন গ্রহণ।

এর আগে, ১৭ এপ্রিল হাইকমিশনের পাসপোর্ট ও ভিসা উইং-এর কাউন্সিলর মিয়া মোহাম্মদ কিয়াম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ই-পাসপোর্ট আবেদন দাখিলের জন্য আবেদনকারীকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়োগকৃত আউটসোর্সিং কোম্পানি ‘এক্সপ্যাট সার্ভিস কুয়ালালামপুর এসডিএনবিএইচডি’ (ইএসকেএল)-এর মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেয়া বাধ্যতামূলক।

নিম্নোক্ত উভয় পদ্ধতিতেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেয়া যাবে-
ওয়েব লিংক: www.expatserviceskl.com অথবা https://www.expatservicesmy.com/#/bookappointment
ঠিকানা: সাউথগেট কমার্শিয়াল সেন্টার, লেভেল-২, ব্লক ই, নং-২, জালান দুয়া অফ জালান চ্যান সো লিন-৫৫২০০, কুয়ালালামপুর। 

ই-পাসপোটের সরকারি ফি 
ভিসা ক্যাটাগরি (সাধারণ শ্রমিক) ৪৮ পাতা ৫ বছর মেয়াদের জন্য ১৬৪ রিঙ্গিত (ইএসকেএল সার্ভিস চার্জ বাবদ ৩২ রিঙ্গিত)। ভিসা ক্যাটাগরি (অন্যান্য) ৪৮ পাতা ৫ বছর মেয়াদের জন্য ৫৪৫ রিঙ্গিত (ইএসকেএল সার্ভিস চার্জ বাবদ ৬০ রিঙ্গিত)।

চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি রাজধানী কুয়ালালামপুরের সাউথগেট কমার্শিয়াল সেন্টারে মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের নানামুখী সেবা নিয়ে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।

শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটি মালয়েশিয়া প্রবাসীদের পাসপোর্ট নবায়নসহ অন্যান্য সেবাদানে হয়রানি ও দালালমুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়ে আসছে। এক্সপ্যাট সার্ভিস কল সেন্টার দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়, ই-পাসপোর্ট সেবার পাশাপাশি, ধাপে ধাপে যুক্ত হয়েছে বিদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা সার্ভিস এবং পাসপোর্ট নেই এমন প্রবাসীদের জন্য ট্রাভেল পারমিট প্রদান, যা আগে সরাসরি হাইকমিশন থেকে সংগ্রহ করতে হতো প্রবাসীদের। এক্সপ্যাট সার্ভিস প্রবাসীদের জন্য জালান চান সো লিনে (সিটি সেন্টারের পাশে) প্রায় ১৪ হাজার বর্গফুট প্রশস্ত ওয়ান স্টপ সার্ভিস নিয়ে আসছে, যেখানে একইসঙ্গে সব সেবা যুক্ত থাকবে। ৪৫টি কাউন্টারের মাধ্যমে চলবে এ সেবা।

কোনো প্রবাসী পাসপোর্ট করতে চাইলে ব্যাংক ড্রাফট থেকে শুরু করে ফর্ম পূরণ পর্যন্ত সব কাজে সহযোগিতা করবে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা। সেবা গ্রহণকারী প্রবাসীদের প্রয়োজন হলে +৬০৩৯২১২০২৬৭ নম্বরে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং এক্সপ্যাট সার্ভিস দ্রুত প্রবাসীদের আন্তরিক সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত বলে জানানো হয়েছে।

এছাড়া আউটসোর্সিং কোম্পানি ইসিএল রাজধানী কুয়ালালামপুরের বাইরে একাধিক রাজ্যে, যেমন জহরবারু ও পেনাংয়ে হাইকমিশনের তত্ত্বাবধানে মোবাইল টিমের মাধ্যমে সেবা প্রদান করবে। ইসিএল পরিচালিত ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারটির সার্বিক কার্যক্রম প্রত্যক্ষভাবে ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায় সরাসরি হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে এবং সিসিটিভির মাধ্যমে তা হাইকমিশন থেকে সরাসরি মনিটরিং করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উন্নত দেশের আদলে এ ধরনের ব্যবস্থা প্রবাসে সেবা সহজ ও দ্রুত করবে এবং সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তন আনবে বলে প্রত্যাশা মালয়েশিয়া প্রবাসীদের।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!