সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬০০০ ফুট উপরে এক বিচিত্র বিদ্যালয়
মানব সভ্যতার শুরুর দিকে গুহা ছিলো মানুষের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল। সভ্যতার অগ্রযাত্রায় গুহাবাসী মানুষ এখন অট্টালিকা গড়ে তুলেছে।
বিদ্যালয়গুলো এই পরিবর্তনে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে। তবে মধ্য চীনে একটি বিদ্যালয় গড়ে উঠেছে গুহার অভ্যন্তরেই।
ঝংডং কেভ স্কুল। এটিই গুহার অভ্যন্তরে নির্মিত পৃথিবীর একমাত্র বিদ্যালয়। প্রাকৃতিক গুহাটিতে বৃষ্টির পানি প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই।
.png)
এজন্য ক্লাসরুমের জন্য কোনো ছাদের প্রয়োজন হয়নি। দুরদুরান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা পাহাড়ি পথে ট্রেকিং করে স্কুলে উপস্থিত হয়।
আবার কিছু শিক্ষার্থী এখানকার হোস্টেলে স্থায়ীভাবে অবস্থান করে। এখানে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয় এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২০০ জন। শুধু স্কুল নয়, গুহাটিতে গড়ে উঠেছে আস্ত একটি গ্রাম।
মিয়াও নৃগোষ্ঠীর ২০টি পরিবার গুহাটির অভ্যন্তরে বসতি গড়ে তুলেছে। এরা সাধারণত পাহাড়ি ঢালে কৃষিকাজ করে। পাশাপাশি তারা গুহার অভ্যন্তরেই গড়ে তুলেছে গবাদিপশুর খামার।
এই গরুগুলোই সম্ভবত পৃথিবীর একমাত্র গুহাবাসী গরু। গুহাটি প্রায় ৭৫০ ফুট দীর্ঘ, প্রস্থ প্রায় ৩৭৭ ফুট এবং উচ্চতায় প্রায় ১৬০ ফুট। জায়গাটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে পাঁচ হাজার ৯০০ ফুট উপরে। শুধুমাত্র পাহাড়ি রাস্তায় পায়ে হেঁটেই এখানে পৌঁছানো সম্ভব।
চীন সরকার ঝংডং পাহাড়ের তলদেশে মিয়াওদের জন্য পাকা বাড়ি নির্মাণ করেছিল। তবে মিয়াওরা গুহাটি ছেড়ে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। কারণ এই গুহাটি তাদের পৈতৃক নিবাস।
প্রাচীন গুহাবাসী মানুষের জীবন নিঃসন্দেহে উন্নত ছিলো না। তবে জীবন যে সমৃদ্ধ এবং সন্তুষ্টি পূর্ণ ছিল, চীনের মিয়াও নৃগোষ্ঠী তা প্রমাণ করেছে।