যারা কলকাতার পুরনো ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করেন, তারা উইলিয়াম ব্লেকারের কথা নিশ্চিত শুনেছেন। একটা সময় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পুলিশ বিভাগে উচ্চপদে চাকরি করতেন তিনি। দক্ষ হাতে শায়েস্তা করেছেন ডাকাতদের। ব্লেকারের জন্ম ১৭৫৯ সালে। অ্যাংলো ইন্ডিয়ান পরিবারের সন্তান ছিলেন তিনি। সেইভাবে তথ্য জানা না গেলেও, সম্ভবত তার মা ছিলেন ভারতের নাগরিক।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সামান্য চাকরি থেকে শুরু করেছিলেন কর্মজীবন। দক্ষ ব্লেকার অচিরেই ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিজের স্থান পোক্ত করে নিয়েছেন। এখনকার দিনে, পুলিশের ভাষায় যাকে ‘সোর্স’ বলা হয়, কাজের সুবিধার জন্য সেই সোর্সদের রাখা প্রথম শুরু হয় তার আমলেই।
.png)
তবে শুধুমাত্র সোর্সেই ক্ষান্ত ছিলেন না ব্লেকার। ডাকাতি আটকানোর জন্য নিজেও ছদ্মবেশ ধারণ করে বেরিয়ে পড়তেন রাস্তায়। বেশিরভাগ সময়ই নারীদের ছদ্মবেশ নিতেন তিনি। সোর্স, এবং ছদ্মবেশ— এই দুইয়ের মিশেলেই বাংলার বিস্তীর্ণ এলাকার ডাকাতি নিয়ন্ত্রণে নিলেন ব্লেকার। আর তার এই ছদ্মবেশের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে সব জায়গায়।
প্রসঙ্গত, কলকাতার সেন্ট জন চার্চের একটি বিখ্যাত ছবি তৈরির সময় মডেল হিসেবে কাজ করেছিলেন ব্লেকার। ছবিটি একেছিলেন যোহান জোফানি, এটি তার ‘লাস্ট সাপার’-এর নিজস্ব ভার্সন।
শুধু পুলিশ হিসেবেই নয়, একজন অনুবাদক হিসেবেও কাজ করেছিলেন ব্লেকার। ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালীনই সুপ্রিম কোর্টের অনুবাদক হিসেবেও কাজ করেন তিনি। কালিকা পুরাণের একটা অংশও অনুবাদ করেছিলেন। কিন্তু, সেইসব এখন অতীত। ১৮৫৫ সালে উইলিয়াম ব্লেকার মারা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই কাহিনিগুলোও লোয়ার সার্কুলার রোডের কবরের অন্ধকারে চলে যায়। পুরনো কলকাতার এই গল্পগুলো আজও সেখানেই রয়ে গেছে।