গুড়ের মটকা- ৯০ দশকের স্মৃতি!
আমাদের ৯০ দশকের হারিয়ে যাওয়া অসংখ্যা স্মৃতি রয়েছে। সেই অসংখ্য টুকরো স্মৃতির একটি হলো’ গুড়ের মটকা’। কাঁধে বাঁশের মোটা বাক, দুই পাশে ধরা থাকতো আর হাতে এক ধরনের বাদ্যযন্ত্র। মুখে সুর, এই ভাঙারি আছে, ভাঙারি..., মটকা আছে মটকা!
এই সুর শুনলেই আমরা যে যেখানে থাকতাম ছুটে যেতাম মটকার লোভে। এই মটকাকে বলা হয় টানা মটকা। এখন আর এই মটকা দেখা যায় না। সেই কাঁধে বাক টানা মটকাওয়ালাও নেই। আমরা তাঁদের বলতাম মটকাওয়ালা।
.png)

এই মিষ্টি আগে পাওয়া যেত ফেরিওয়ালার কাছেই। বাড়ির ফেলনা জিনিস বা সামান্য পয়সায় বিনিময়েই পাওয়া যেত তা। এর প্রধান আকর্ষণ শুধুই মিষ্টি স্বাদ নয়। চিবোনোর সময় দাঁতে দাঁতে লেগে যায় এটি। অনেকটা চুইংগামের মতো অনুভূতি আসে মুখে। এই কারণে তখনকার বাচ্চাদের ভীষণ প্রিয় ছিল এটি।
মটকাওয়ালা দেখলেই মটকা আমাদের খেতেই হবে। গুড়ের মটকা খেতে মিষ্টি, চিবোতে কড়া। স্থানভেদে রয়েছে তার নামভেদ। তবে দুই বাংলার মানুষের ছেলেবেলা জুড়ে লেগে আছে তার মিষ্টি স্বাদ।
- স্কুলগেটে টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে হাক বা বাড়ির লোহা ভাঙা, টিন ভাঙা দিয়ে অথবা পুরাতন স্যান্ডেল দিয়ে গুড়ের মটকা প্রায় সকলে খেয়েছি। এর প্রধান আকর্ষণ শুধুই মিষ্টি স্বাদ নয়। চিবোনোর সময় দাঁতে দাঁতে লেগে যায় কেউ কেউ এটাকে গাট্টা বলেও ডাকে।
তখন পাড়ার দোকানে ক্যাটবেরির মতো চকোলেট পাওয়া যেতো না। তাই নব্বই দশক চকোলেটের স্বাদ হিসেবে মনে রেখেছে গুড়ের মটকাকে। গুড় দীর্ঘক্ষণ জ্বাল দিয়ে টেনে এই মটকা তৈরি করা হয় বলে একে আবার টানা মটকা বলেও ডাকে।

সময়ের সাথে সাথে হারিয়েছে এর কদর। আধুনিক ছেলেমেয়েরা জানে না এর স্বাদ। হয়তো আধুনিক চকোলেটের কাছে এই মটকা টিকতে পারেনি। কিন্তু একটি প্রজন্মের কাছে এটাই ছিল আনন্দের বড়ো উপাদান। আজও কোনো গ্রাম্য মেলায় এই মটকার দেখা পাওয়া যায়। ঐহিত্য নিয়েই আজও টিকে আছে গুড়ের মটকা।
- অলোক আচার্য, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট