ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

[ ফিচার ]
বিশ্ব দৃষ্টি দিবস

দৃষ্টি ত্রুটিতে ভুগছে দেশের প্রায় দেড় কোটি মানুষ

মাহি আছহাব
প্রকাশিত: ১৯:০৫, ৮ অক্টোবর ২০২৬
দৃষ্টি ত্রুটিতে ভুগছে দেশের প্রায় দেড় কোটি মানুষ
চোখের সমস্যা দেখা দেওয়ার পর চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। শিশুদের দৃষ্টিশক্তির সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করা গেলে তাদের শিক্ষা ও স্বাভাবিক বিকাশে এর নেতিবাচক প্রভাব কমানো সম্ভব।

ছোটবেলা থেকে স্মার্টফোন ও ট্যাবে ভিডিও গেমসের আসক্তি শিশুদের চোখের বিভিন্ন ধরনের সমস্যাসহ নানা ধরনের মানসিক সমস্যার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে পৃথিবীতে প্রায় ২২০ কোটি মানুষ অন্ধত্ব বা দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতায় ভুগছে, যার মধ্যে ১ বিলিয়ন মানুষের অন্ধত্ব বা দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা প্রতিরোধ ও প্রতিকার করা সম্ভব।

বিশ্ব দৃষ্টি দিবস আজ। প্ৰতি বছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অন্ধত্ব এবং চোখের বিকলতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে গোটা বিশ্বজুড়ে ‘বিশ্ব দৃষ্টি দিবস’ পালন করা হয়। ২০০০ সালে লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃক অনুষ্ঠিত সাইট—ফার্স্ট—ক্যাম্পেইনের ফলশ্রুতিতে এই দিবসের শুরু হয়। 

  • এবারের প্রতিপাদ্য: “Love Your Eyes” — চোখকে ভালোবাসুন। বিশ্ব দৃষ্টি দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য “Love Your Eyes” আমাদের প্রত্যেককে নিজের চোখের প্রতি যত্নশীল হওয়ার এবং দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষায় সচেতন হওয়ার আহ্বান জানায়।

বিশেষজ্ঞরা শিশুদের দীর্ঘ সময় একটানা স্ক্রিন ব্যবহার না করার পাশাপাশি নিয়মিত বিরতি নেওয়া, পর্যাপ্ত আলোতে পড়াশোনা করা এবং দিনের আলোয় বাইরে সময় কাটানোর পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুদের খেলাধুলা ও শারীরিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

চোখের সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত ঘুম, পুষ্টিকর খাবার, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং চোখকে আঘাতের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ। কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করা ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা চশমা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উপলক্ষে বিশেষজ্ঞরা বলেন, চোখের সমস্যা দেখা দেওয়ার পর চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। শিশুদের দৃষ্টিশক্তির সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করা গেলে তাদের শিক্ষা ও স্বাভাবিক বিকাশে এর নেতিবাচক প্রভাব কমানো সম্ভব।

তারা বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়; তবে সচেতন ও ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানো যায়। প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব কমাতে ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসএমএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!