বাংলাদেশ উৎপাদনকারী হিসেবে ৪০তম এবং আমদানিকারক হিসাবে দ্বিতীয়!
বিপুল পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানির সক্ষমতা থাকলেও তুলা উৎপাদনে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে। দেশে তুলা উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও সীমিত আবাদযোগ্য জমির কারণে শুধু জমির পরিমাণ বাড়িয়ে উৎপাদন বাড়ানো কঠিন। তাই উন্নত জাতের বীজ, আধুনিক চাষপদ্ধতি, সেচ, যান্ত্রিকীকরণ, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ ও কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কম জমিতে বেশি উৎপাদনের দিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। এই শিল্পের প্রধান কাঁচামাল তুলা হলেও এর জোগানে প্রায় পুরোটাই বিদেশনির্ভর। প্রয়োজনীয় তুলা আমদানিতে বাংলাদেশ শীর্ষ কাতারে। চীনকে টপকে কয়েক বছর শীর্ষেও ছিল। বর্তমানে মোট চাহিদার প্রায় ৯৭ শতাংশই আমদানি করে মেটাতে হয়। রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে দেশে তুলার চাহিদাও ক্রমান্বয়ে বেড়েছে। তবে এত চাহিদা বাড়ার পরও দেশে তুলা উৎপাদিত হয় মোট চাহিদার মাত্র ৩–৪ শতাংশ।
World Cotton Day বা ‘বিশ্ব তুলো দিবস’ আজ। এই দিনটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, গ্রামীণ জীবিকা এবং সুস্থায়ী উন্নয়নে তুলোর গুরুত্ব তুলে ধরে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০২১ সালে ৭ অক্টোবরকে বিশ্ব তুলা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এর আগে ২০১৯ সালে তুলা উৎপাদনকারী চার আফ্রিকান দেশ—বেনিন, বুরকিনা ফাসো, চাদ ও মালির উদ্যোগে দিবসটি পালনের যাত্রা শুরু হয়।

এবারের বিশ্ব তুলো দিবসের থিম হল: “Cotton for Good: Building Prosperity Through Trade, Transformation and Partnership” বা “মঙ্গলের জন্য তুলো: বাণিজ্য, রূপান্তর ও অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সমৃদ্ধি গড়ে তোলা”।
তুলার ইতিহাস পৃথিবীতে ৭ হাজার বছরের পুরাতন। আর্যদের যুগ থেকে বৃটিশ আমলের পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশের ঘরে ঘরে কার্পাসের চাষ হতো, চরকায় সুতা তৈরি হতো, তাঁতিরা কাপড় বুনে দেশের চাহিদা মেটাতো।
বিশ্বে প্রায় ৭৫টি দেশে তুলা চাষ করা হয়। বিশ্বে তুলা উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ৪০তম অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ তুলা আমদানিকারক দেশ হিসাবে বিশ্বের দ্বিতীয়। যেসব দেশ থেকে তুলা আমদানি করা হয় তা হলো আফ্রিকা থেকে ৩৭ শতাংশ, ভারত থেকে ২৬ শতাংশ, সি.আই. এস. দেশ সমুহ থেকে ১১ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১১ শতাংশ, অষ্ট্রোলিয়া থেকে ৫ শতাংশ এবং অন্যান্য দেশ থেকে ১০ শতাংশ।

- তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বে শীর্ষস্থানীয় পর্যায়ে থাকা বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল তুলা। গত বছর (২০২৫) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য বিশ্লেষণ করে কৃষিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচারাল ইকোনমিকস (বিএই) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যাতে দেখা যায়, তুলা আমদানিতে বছরে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে বাংলাদেশ।

- তুলা বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল। দেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসে তৈরি পোশাক থেকে। অথচ এ শিল্পের মূল উপকরণ তুলার প্রায় পুরোটাই আমদানি করতে হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার দাম, জাহাজভাড়া, ডলার সংকট কিংবা সরবরাহব্যবস্থায় অস্থিরতা দেখা দিলে চাপ পড়ে দেশের স্পিনিং, টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাতে।
কৃত্রিম আঁশের ব্যবহার বাড়ায় গত কয়েক দশকে তুলার চাহিদার অংশ কমেছে। বাংলাদেশের জন্য তুলার গুরুত্ব আরও বেশি। দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল তুলা। মাঠে উৎপাদিত তুলা প্রক্রিয়াজাত হয়ে সুতা, কাপড় এবং শেষ পর্যন্ত তৈরি পোশাকে রূপ নেয়। সেই পোশাক রপ্তানি হয়ে পৌঁছে যায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছে।
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানিয়েছে, তুলা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক আঁশ। পোশাক, গৃহস্থালি পণ্যসহ বিভিন্ন শিল্পে এর ব্যবহার রয়েছে। তুলা চাষ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাণিজ্যের সঙ্গে বিশ্বের লাখো কৃষক, শ্রমিক ও তাদের পরিবার যুক্ত। বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে তুলা কোটি কোটি মানুষের জীবিকা ও আয়ের উৎস। উৎপাদিত তুলার প্রায় ৮০ শতাংশ পোশাক তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।