এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সাড়া না দিলেও জাপান, জার্মানি, ইউরোপিয়ান কমিশনের মতো তাদের প্রধান মিত্ররাসহ বিশ্বের ১৭০টিরও বেশি দেশ এতে যোগ দিবে বলে জানিয়েছে। এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোভ্যাক্স পরিকল্পনার সঙ্গে রয়েছে সিইপিআই (কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশসন) এবং গ্যাভি দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্সের মতো আন্তর্জাতিক জোটও।
কোভ্যাক্স উদ্যোগের সঙ্গে যোগ না দেয়া প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জাড ড্রি বলেন, ‘এই ভাইরাসকে পরাজিত করতে যুক্তরাষ্ট্র তার আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে থাকবে। তবে আমরা দুর্নীতিগ্রস্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং চীন প্রভাবিত বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোর কাছে বাঁধা থাকব না।’
.png)
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির বৈশ্বিক স্বাস্থ্য আইন বিষয়ের অধ্যাপক লরেন্স গস্টিন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র একা চলার পরিকল্পনা নিয়ে অনেক বড় জুয়া খেলছে।’
ডার্টমাউথের গিজেল স্কুল অব মেডিসিনের সহকারী অধ্যাপক কেন্ডাল হোৎ বলেন, ‘এটি অনেকটা বিমা থেকে বের হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা।’ তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ওষুধ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করতে পারে এবং একইসঙ্গে কোভ্যাক্সেও অংশ নিতে পারে। সাধারণ ঝুঁকি বিবেচনার দিক থেকে এটি (কোভাক্সে যোগ না দেয়া) খুবই অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
গত মে মাসে ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেয়। এ সময় সংস্থাটিতে অর্থায়ন বন্ধ করে দেশটি। সংস্থার সর্বোচ্চ অর্থদাতা ছিল যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের অভিযোগ, চীনা প্রভাবে পরিচালিত হয় সংস্থাটি।
এর আগে গত জুলাই মাসে ডব্লিউএইচওর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে সম্ভাব্য কোভিড-১৯ টিকা কিনতে অনাগ্রহ দেখায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তারা এ প্রক্রিয়াকে গতিহীন ও ব্যয়বহুল হিসেবে তুলে ধরে। এর বদলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৪০ মার্কিন ডলারেরও কমে প্রতি ডোজ টিকা পেতে সরাসরি টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে।
কোভ্যাক্স উদ্যোগের মাধ্যমে টিকা কেনার যে প্রক্রিয়া নেয়া হয়েছে, এতে সম্পদশালী দেশগুলোকে প্রতি ডোজ টিকার জন্য আগাম ৪০ মার্কিন ডলার দিতে বলা হয়। ইউরোপের কয়েকটি দেশ সবার জন্য টিকা উদ্যোগকে সমর্থন দিয়েছে। তারা বৈশ্বিক তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগকেও প্রচার করেছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৯০০ কোটি ডলার তহবিল সংগৃহীত হয়েছে। এর এক-তৃতীয়াংশই এসেছে ইউরোপের দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে। এ অর্থ কোভিড-১৯ টিকা উৎপাদন ও সমবণ্টনের বিষয়টি নিশ্চিত করবে।
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনার টিকা আগেভাগে পেতে অনেক দেশ আগাম ফরমাশ দিয়ে রাখছে। ট্রাম্প প্রশাসন গত বুধবার টিকা পেতে অনেক বড় ধরনের বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে ১০ কোটি ডোজ টিকা পেতে টিকা উৎপাদনকারী ফাইজার ও বায়োএনটেকের সঙ্গে ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তি করেছে দেশটি।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে কোভ্যাক্সে অংশ নিতে বাধা আছে। তাদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রে যথেষ্ট করোনা টিকা উৎপাদনের কাজ চলছে এবং সেগুলো উন্নত পরীক্ষা পর্যায়ে রয়েছে। ফলে, যুক্তরাষ্ট্র একাই টিকা পাওয়ার লড়াইয়ে এগিয়ে যেতে চায়। তবে করোনার বিরুদ্ধে বৈশ্বিক ওষুধ ও টিকা উদ্যোগ থেকে যুক্তরাষ্ট্র মুখ ফিরিয়ে নিলেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।