ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

এবার কোভিড শনাক্ত করবে মৌমাছি!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫:১৪, ৮ মে ২০২১
এবার কোভিড শনাক্ত করবে মৌমাছি!
ছবি: সংগৃহীত

কোভিড ১৯ পরীক্ষার প্রচলিত পদ্ধতিতে নমুনা সংগ্রহ থেকে শুরু করে চূড়ান্ত ফল পেতে বেশ খানিকটা সময় লাগে। নমুনা সংগ্রহ থেকে ফল পাওয়া পর্যন্ত সময়ের এ ব্যবধান কমিয়ে আনতে কাজ করছেন নেদারল্যান্ডসের একদল বিজ্ঞানী। গবেষণার অংশ হিসেবে একদল মৌমাছিকে করোনা শনাক্তের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এ প্রচেষ্টা সফল হলে নমুনার গন্ধ শুঁকেই কোভিড ১৯ শনাক্ত করতে পারবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এসব মৌমাছি।

নেদারল্যান্ডসের ওয়াজেনিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈব-পশুচিকিত্সার গবেষণাগারে মৌমাছির এ বিশেষ প্রশিক্ষণ চলছে। সেখানে কোভিড–১৯ আক্রান্ত রোগীদের নমুনা শনাক্ত করতে দেয়া হচ্ছে মৌমাছিকে।

প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া মৌমাছিরা কোভিড–১৯ আক্রান্ত নমুনা শনাক্তের সময় স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের স্ট্র’র মতো লম্বা ও সূক্ষ্ম শুঁড় প্রসারিত করতে পারছে, এমনটাই জানিয়েছেন ভাইরোলজির অধ্যাপক উইম ভ্যান দের পোয়েল। তিনি এ প্রকল্পে গবেষণায় যুক্ত রয়েছেন।

Advertisement

উইম ভ্যান দের পোয়েল বলেন, ‘শুরুতে আমরা মৌয়ালের কাছ থেকে সাধারণ মৌমাছি সংগ্রহ করেছি। এরপর সেগুলো বিশেষ ব্যবস্থায় রেখেছি। এতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠার পরে, প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে মৌমাছিগুলোর সামনে করোনার পজিটিভ নমুনা রাখা হয়েছে। এর পরপরই সেগুলাকে দেয়া হয়েছে চিনিযুক্ত পানি। দেখা গেছে, কোভিড–১৯ আক্রান্ত নমুনা শনাক্তের পরে মৌমাছিরা চিনিযুক্ত পানিতে তাদের শুঁড় বাড়িয়ে দিয়েছে।’

এটা যেন অনেকটাই করোনা শনাক্তের পর মৌমাছিকে পুরস্কার দেয়ার মতো। আক্রান্ত নমুনা ঠিকঠাক শনাক্ত করতে পারলে পুরস্কার হিসেবে মিষ্টিজাতীয় পানি পাচ্ছে মৌমাছিরা। আর শনাক্ত করতে না পারলে মিলছে না কিছুই।

গবেষকেরা বলছেন, প্রচলিত উপায়ে করোনা শনাক্তে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন সময় লেগে যায়। তবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মৌমাছি দিয়ে শনাক্ত করলে কয়েক সেকেন্ডেই ফলাফল পাওয়া যায়। এটি খুবই ব্যয়সাশ্রয়ী ও কার্যকর একটি প্রক্রিয়া। তাৎক্ষণিকভাবে ফল হাতে পাওয়া যায়।

পোকামাকড় দিয়ে গন্ধ শুঁকে কোনও জিনিস শনাক্ত করার ঘটনা অবশ্য এটাই প্রথম নয়। বেলজিয়ামের ঘেন্ত ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক দির্ক দে গ্রাফ জানান, ১৯৯০-এর দশকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর এ পদ্ধতির সফল পরীক্ষা চালায়। তখন মূলত বিস্ফোরক ও বিষাক্ত জিনিস শনাক্ত করতে পোকামাকড় ব্যবহারের এ কৌশল নেয়া হয়।

অধ্যাপক দির্ক দে গ্রাফ জানান, নিরাপদে বিস্ফোরক শনাক্তকরণ ছাড়াও মেডিক্যাল পরীক্ষা নিরীক্ষাতেও প্রজাপতি, মৌমাছি ও ভিমরুলের ব্যবহার রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!