ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

সৌদি বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা, আহত ১৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১:০৯, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২২
সৌদি বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা, আহত ১৬
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জিজান প্রদেশের একটি বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় কমপক্ষে ১৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।

সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) কিং আব্দুল্লাহ বিন আব্দুলআজিজ বিমানবন্দরে ছুটে আসা হুতি বিদ্রোহীদের একটি ড্রোন ভূপাতিত করে সৌদি আরবের বিমান বাহিনী। এ সময় ড্রোনটি ধ্বংসাবশেষের আঘাতে ওই বিমানবন্দরে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের ১৬ নাগরিক আহত হন। আহতদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আল-এখবারিয়ায় প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বিমানবন্দরের একটি ভবনের ভেতরে গ্লাসের টুকরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে।

Advertisement

এ নিয়ে গত দুই সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো সৌদি আরবের বিমানবন্দরে দু’বার ড্রোন হামলা চালাল হুথি বিদ্রোহীরা।

আরো পড়ুন>> বুরকিনা ফাসোয় সোনাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৬০

গত ১০ ফেব্রুয়ারি দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় আভা শহরের একটি বিমানবন্দরে হুথিদের ড্রোন হামলায় বাংলাদেশি প্রবাসীসহ অন্তত ১২ জন আহত হন। পরে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানায় বোমা হামলা চালিয়ে একটি টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেম গুঁড়িয়ে দেয় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

গত ডিসেম্বরে সৌদি জোট জানায়, হুথি বিদ্রোহীরা গত সাত বছরে সৌদি আরব লক্ষ্য করে ৮৫০টিরও বেশি ড্রোন এবং ৪০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এতে অন্তত ৫৯ বেসামরিক নিহত হয়েছেন।

আরো পড়ুন>> রাশিয়ার স্বীকৃতি পাওয়া ইউক্রেনের দুই অঞ্চলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

২০১৫ সালের শুরুর দিকে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনের ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মনসুর আল হাদি ক্ষমতা ছেড়ে সৌদি আরবে পালিয়ে যান। ক্ষমতাচ্যুত এই প্রেসিডেন্টকে ফেরাতে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে।

কিন্তু এই অভিযানের শুরুর পর ইয়েমেনের রাজনৈতিক সংকটের অবসান হওয়ার পরিবর্তে তা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। বর্তমানে ইয়েমেনে কার্যত দুই শাসকগোষ্ঠী সক্রিয় আছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামরিক সহযোগিতার ওপর ভর করে দেশটির দক্ষিণাঞ্চল এখনও মনসুর হাদির নেতৃত্বাধীন সরকারের নিয়ন্ত্রণে আছে, অন্যদিকে উত্তরাঞ্চল সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে হুথি বিদ্রোহীরা।

ইয়েমেনের এই সংঘাতকে মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্যের লড়াইয়ে সৌদি-ইরানের ছায়াযুদ্ধ হিসেবে দেখা হয়। টানা গৃহযুদ্ধ ও সংঘাত চলার ফলে প্রায় ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ এবং এক সময়ের স্বচ্ছল এই দেশ। জাতিসংঘ বলছে, ইয়েমেনের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ খাদ্য ও ওষুধের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের গুরুতর সংকটে ভুগছেন।

সূত্র: এবিসি নিউজ

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!