আফগান গ্রামের উপাধি হয়ে উঠেছে `এক কিডনি গ্রাম`!
চরম দারিদ্র্য আফগানদেরকে চিকিৎসকের অপারেশন টেবিলে নিয়ে গেছে। ঋণ পরিশোধ ও পরিবারের জন্য খাদ্য সরবরাহ করতে কিডনি বিক্রি করছে আফগানরা। এজন্যে, আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হেরাতে একটি বসতি রীতিমতন 'এক কিডনি গ্রাম' নামে পরিচিতি পেয়েছে।
বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষার মতো মৌলিক বিষয়গুলো তো দূরের কথা, বেঁচে থাকার জন্যে প্রয়োজনীয় খাদ্য জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটির জনগণ। সন্তানদের খাবার জোগাড় করতে নিজেদের কিডনি পর্যন্ত বিক্রি করে দিচ্ছেন অভিভাবকরা। এমনকি সন্তান পালনে অক্ষম হওয়ায় তাদেরও বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হেরাতে এই কিডনি বিক্রির চর্চা এতটাই ব্যাপক হয়ে উঠেছে যে, একটি বসতিকে 'এক কিডনি গ্রাম' নামে ডাকা হয়। এই গ্রামের অধিকাংশ মানুষই তাদের একটি করে কিডনি বিক্রি করে দিয়েছে। চরম মানবিক সংকট চলছে আফগানিস্তানে।
.png)
ইরান সীমান্তের পাশে বসবাসরত নুরুদ্দিন এএফপিকে বলেন,'সন্তানকে বাঁচাতে জন্য আমাকে এটা করতে হয়েছে। আমার কাছে আর কোন উপায় ছিল না।'
৩৮ বছরের স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাদির ভীষণ অসুস্থ দীর্ঘদিন ধরে। তিনি বলেন 'আমি যদি আমার কিডনি বিক্রি না করি, আমি আমার এক বছরের মেয়েকে বিক্রি করতে বাধ্য হব।' অথচ, শুধু চা আর এক টুকরো রুটি খেয়ে দিন পার করছেন তিনি। টাকার অভাবে নিজের চিকিৎসা করাতে পারছেন না।
রাজধানী কাবুলের সবচেয়ে বড় হাসপাতালের ডায়ালাইসিস সেন্টারের চিকিৎসক হোসাল তুফান বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে দুই শতাধিক মানুষ তাদের কিডনি বিক্রির জন্য আবেদন করেছেন। যদিও, আমরা তাদের ফিরিয়ে দিই।’
কাবুলের পাশাপাশি হেরাত এই কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য পরিচিত। হেরাতে কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য দুটি হাসপাতাল আছে। এসব কিডনির মূল ক্রেতা ইরান ও তুর্কমেনিস্তানের নাগরিকরা।