কখন পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করা হবে জানাল রাশিয়া
যুদ্ধ শুরুর একমাস কেটে গেলেও ইউক্রেনের উপরে একনাগাড়ে হামলা চালিয়েই যাচ্ছে রাশিয়া। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হামলার ধরনও পরিবর্তিত হয়েছে। কিয়েভ, খারকিভের পর এবার মারিউপোল, লিভিভের মতো শহরেও লাগাতার হামলা চালাতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার মারিউপোলের উপরে অতি শক্তিশালী ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বোমাবর্ষণ করেছে রাশিয়া। এরপরই ফের একবার যুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছে, আপাতত পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা নেই তাদের। একমাত্র বিশেষ পরিস্থিতিতেই তারা পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে তারা।
দিমিত্রি পেসকভ জানান, রাশিয়ার মূল অস্তিত্ব যখন হুমকির মুখে পড়বে, তখনই কেবল সে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে। তবে এমন কোনও পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে কিনা বা কোন পরিস্থিতিকে অস্তিত্ব সঙ্কট বলে গ্রাহ্য করা হবে, সে বিষয়ে কিছু জানাননি তিনি।
গত মাসেই ইউক্রেনের উপরে সামরিক অভিযান শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপর থেকেই ইউক্রেনের উপরে চারদিক থেকে আক্রমণ চালাতে শুরু করে রুশ সেনা। যুদ্ধ শুরুর কিছুদিন পরই জানা যায়, রুশ প্রেসিডেন্ট সে দেশের নিউক্লিয়ার বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। এরপরই পশ্চিমী দেশগুলি ইউক্রেনের উপরে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল।
.png)
আরো পড়ুন: এই ‘যুদ্ধ’ জেতার নয়: গুতেরেস
চেরোনেবিল পরমাণু কেন্দ্রের দখল, জাপরঝিয়া পরমাণু বিদ্য়ুৎ কেন্দ্রে মিসাইল হামলা ও দখল নেওয়ার চেষ্টা সেই উদ্বেগকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর তরফেও জানানো হয়, তাদের নিউক্লিয়ার মিসাইল বাহিনী সহ একাধিক সামরিক বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। শীর্ষ মহলের নির্দেশ পেলেই তারা আক্রমণ চালাবে।
রাষ্ট্রসংঘের বৈঠকেও জেনারেল সেক্রেটারি আন্তেনিও গুতেরেস বলেছিলেন, পরমাণু হামলার কথা অকল্পনীয় হলেও, বর্তমানে এই ভয়ঙ্কর অস্ত্র ব্য়বহারের একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভারতসহ একাধিক দেশও যুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্য়বহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।