কেন্টাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়ার বলেছেন, মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে তিনি প্রত্যাশা করছেন। তিনি বলেছেন, শত শত বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্যায় ডুবে গেছে।
শুক্রবার (২৯ জুলাই) দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কেনটাকিতে বন্যাকে ‘বড় বিপর্যয়’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় উদ্ধারকারীদের সহায়তা করার জন্য ফেডারেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বন্যায় নিহতদের মধ্যে অন্তত ৬ জন শিশু আছে; যাদের মধ্যে একজনের বয়স এক বছর।
.png)
বিজ্ঞানীরা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কেন্টাকির বন্যার মতো চরম বৈরী আবহাওয়ার ঘটনা ঘটছে। দেশটির ন্যাশনাল গার্ডের হেলিকপ্টারে করে কেন্টাকির গভর্নর বেসিয়ার বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। কেন্টাকির বন্যাকে এযাবৎকালের ‘সবচেয়ে ভয়াবহ’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
আরো পড়ুন>> ইরাকের পার্লামেন্ট ভবনে ফের তাণ্ডব চালালো বিক্ষোভকারীরা
বেসিয়ার বলেছেন, এখনও অনেক মানুষ বন্যায় আটকা আছেন। এছাড়া আরো অনেক মানুষের খোঁজও পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা তাদের সবাইকে খুঁজে বের করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। বন্যা কবলিত এলাকা থেকে ইতোমধ্যে শত শত মানুষকে নৌকা এবং হেলিকপ্টারে করে উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে বন্যা কবলিত এলাকায় ব্যাপক দারিদ্রতা দেখা দিয়েছে। ওই এলাকার কমপক্ষে ৩৩ হাজার মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছেন। ভারী বর্ষণের কারণে সৃষ্ট বন্যায় কিছু কিছু এলাকায় ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেছে। অনেক এলাকার সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
বেসিয়ার বলেছেন, অ্যাপালাচিয়ায় এর আগেও আকস্মিক বন্যা হয়েছে। কিন্তু এবারের মতো ভয়াবহ বন্যা কখনই দেখা যায়নি।
গত ২৪ ঘণ্টায় কেন্টাকির কিছু এলাকায় আট ইঞ্চির বেশি (২০ সেন্টিমিটার) বৃষ্টি হয়েছে। পেরি এবং নট কাউন্টিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রতিবেশী ভার্জিনিয়া এবং পশ্চিম ভার্জিনিয়াতেও কিছু বন্যা হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই অঞ্চলের নদীগুলো সপ্তাহান্তে উত্তাল হবে।
আরো পড়ুন>> মৃত্যুর ৩০ বছর পর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন যুগল!
সামনের সপ্তাহে বৃষ্টি আরো বাড়ার আশঙ্কার কথা জানিয়ে অঙ্গরাজ্যের গভর্নর বেসিয়ার জনগণকে একটি নিরাপত্তা পরিকল্পা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির প্রতিনিধিরা শুক্রবার স্থানীয় উদ্ধারকর্মীদের সহায়তার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছেছেন।
তবে এখনও কত মানুষ নিখোঁজ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কেমন তা পরিষ্কার নয় জানিয়ে গভর্নর বলেন, কী পরিমাণ মানুষ ক্ষতির শিকার হয়েছেন বা নিখোঁজ রয়েছেন এখনো তা পরিষ্কার নয়। সড়কের বেহাল দশার কারণে কিছু কিছু জায়গায় যাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বের অন্যান্য এলাকার মতো কেন্টাকিও চরম আবহাওয়ার মুখোমুখি হচ্ছে। সেখানে বৃষ্টির মাত্রাও বেড়েছে। এর আগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ভয়াবহ টর্নেডোর আঘাতে রাজ্যটিতে ৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন।
সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস