চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানিয়েছে চীনা সংবাদমাধ্যম সাউথ চাইনা মর্নিং পোস্ট।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, অসুস্থতাজনিত কারণে মালিকের মৃত্য হয়। সেই শোকে টানা দুই দিন ধরে অনশনের পর চলতি সপ্তাহে দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে একটি কুকুর মারা গেছে।
.png)
মৃত ঐ বৃদ্ধের নাতনির বরাতে বলা হয়েছে, ১০ বছরের বেশি বয়সী গ্রামের এ কুকুরটি একেবারে শৈশব থেকে বৃদ্ধের সঙ্গী ছিল।
মালিকের মৃত্যুর পর নিজের শেষ দুদিন পোষ্য ঐ কুকুরটি (বৃদ্ধের) কফিনের পাশে শুয়ে কাটিয়েছে। এসময় কুকুরটি কোনো খাবার খায়নি বা পানি পান করেনি। এমনকি এ সময়ে নড়াচড়াও করেনি সেটি।
সাউথ চাইনা মর্নিং পোস্ট প্রতিবেদনে আরো জানায়, মৃত্যুর আগে অর্থাৎ নিজের জীবনের শেষ মুহূর্তে কুকুরটি তার মালিকের একটি শেষ ইচ্ছাপূরণ করেছে। তার দাদা মৃত্যুর আগে তাদের পুরাতন বাড়িতে যেতে চেয়েছিলেন। তবে তার আগেই তিনি মারা যান। অবশ্য কুকুরটি তার মালিকের শেষ ইচ্ছাপূরণ করেছে। বৃদ্ধের বড় ছেলে সম্প্রতি পুরোনো ঐ বাড়িটি সংস্কার করেছে।
মৃত ঐ বৃদ্ধের নাতনি সান বলেন, কুকুরটি আমার পরিবারের পুরনো বাড়িতে গিয়েছিল। যেটি আমার দাদার অপূর্ণ ইচ্ছা ছিল।
সান আরো বলেন, কুকুরটি তার দাদার জন্মদিনে মারা গেছে। ঘটনাটি কাকতালীয় ঘটনা হলেও অনেকে বলছেন, এটি এখন তাদের ‘ভাগ্যকে বিশ্বাস করতে’ বাধ্য করেছে।
অনলাইনে একজন ব্যক্তি মন্তব্য করেছেন, কুকুরটি ভয় পেয়েছিল যে, তার মালিক স্বর্গে একাকী হয়ে যাবেন। তাই সে তাকে সঙ্গ দিতে সেখানে চলে গেল।
ব্যতিক্রমী এ সংবাদটি চীনের অন্তর্জাল জগতে ভাইরাল হয়েছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত চীনের টুইটারের মতো প্ল্যাটফর্ম ওয়েইবোতে ২৩ কোটি ভিউ পেয়েছে। অনেকে সেখানে কুকুরের সঙ্গে নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন।
একজন ব্যক্তি সেখানে লিখেছেন, আমার দাদা গত ১৩ তারিখে মারা গেছেন, এবং এরপর থেকে তার কুকুর আর ঘুমায়নি। কুকুরটি শেষ পর্যন্ত আমার দাদার জামাকাপড়ের একটিতে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়ে, যেটি আমার দাদি বের করে মেঝেতে রেখেছিলেন।
অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, তারা স্বর্গে পুনরায় মিলিত হয়েছে এবং চিরকাল একসঙ্গে থাকবে।