করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে কঠোর পথে চীন
চীনজুড়ে টানা তিনদিন এক হাজারের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এতে ভাইরাসটি ঠেকাতে কঠোর পথ অবলম্বন করছে চীন। দেশটির শহরগুলোতে বেশ কড়া পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানায়, চীনের মধ্য শহর উহান থেকে উত্তর-পশ্চিম শহর শিনিংয়ে করোনা প্রাদুর্ভাব দ্বিগুণ কমানো চেষ্টা করা হচ্ছে। করোনার বিস্তৃতি রোধ করতে ভবনগুলোকে বন্ধ করা হচ্ছে এবং কয়েকটি জেলায় লকডাউনের নির্দেশনা জারি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার চীন জানায়, টানা তিনদিন ধরে এক হাজারের বেশি লোক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। গত বছর প্রতিদিন সাংহাইয়ে হাজার হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হন। সেই তুলনায় এ সংখ্যা কম। তবে এ সংখ্যা দেশজুড়ে আরো কঠিন বিধিনিষেধ আরোপ করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
.png)
বিশ্বের পরিমাপ অনুযায়ী, চীনের করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভব কম। তবে চলতি বছর উচ্চহারে ছড়ানো করোনার ওমিক্রন ধরন মোকাবিলায় কঠিন নিয়ম ও ব্যাঘাতমূলক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দেশটির অর্থনৈতিক বাজার ও জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার করে।
চীনের গোয়াংডং প্রদেশের রাজধানী গোয়াঞ্জহু দেশটির চতুর্থ বড় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির শহর। সেখানকার এবং তার প্রতিবেশী শহরের অনেক পথ বন্ধ করা হয়েছে। যেখানে করোনার প্রাদুর্ভাব ছড়ানোর উচ্চ আশঙ্কা রয়েছে সেখানে বাড়িতে মানুষকে বন্দি করা হয়েছে। এটি চার সপ্তাহে গড়িয়েছে।
বিশ্বের প্রথম করোনার প্রাদুর্ভাবের শহর উহানে চলতি সপ্তাহের প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ জন করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এজন্য আগামী ৩০ অক্টোরব পর্যন্ত ৮ লাখ মানুষকে বাড়িতে থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, উহান শহরের বিভিন্ন অংশে শুকর বিক্রি বাতিল করা হয়েছে। স্থানীয় শুকরের মাংস যোগান ব্যবস্থায় করোনার সূত্র পাওয়া গেছে।
কিনগুয়াই প্রদেশের রাজধানী শিনিংয়ে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ অক্টোবরের শুরুতে ২৫ লাখ মানুষকে এক সপ্তাহের জাতীয় ছুটি দিয়েছে। এতে খাদ্যের সংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে।
বুধবার শিনিংয়ের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, করোনার প্রাদুর্ভাব ছড়ানো রোধে কিছু সবজি ও ফলের দোকান বন্ধ করে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
চীনের ড্যাটং ও শিয়ানসহ বেশ কয়েকটি শহরে করোনার লাগাম টেনে ধরতে বিভিন্ন বিধি-নিষেধ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।