ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

নিজেদের মল-মূত্র থেকে তৈরি গ্যাস দিয়ে হয় রান্না, মরুভূমিতে বসবাস দম্পতির

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬:০৯, ২৮ অক্টোবর ২০২২
নিজেদের মল-মূত্র থেকে তৈরি গ্যাস দিয়ে হয় রান্না, মরুভূমিতে বসবাস দম্পতির
ছবি: সংগৃহীত

শহুরে জীবন ভাল লাগে না। তাই শহর থেকে দূরে কোথাও ঘর বাঁধার ইচ্ছা জাগে হুইটনি নিউকার্ক এবং তার স্বামী ট্রেন্ডের। কিন্তু তা বলে মরুভূমি? প্রথমে নিজেরাই একটু সংশয়ে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই অসাধ্য সাধন করে দেখালেন দু’জন। যুক্তরাষ্ট্রের মরুভূমির মাঝে এখন চুটিয়ে সংসার করছেন তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে থাকতেন ৩৪ বছরের হুইটনি আর ২৬ বছরের ট্রেন্ড। দু’বছর আগে শহর ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা।

এও ঠিক করেন, শহর থেকে যতটা সম্ভব কম জিনিসপত্র কিনে আনবেন। তা সে যতই প্রয়োজনীয় হোক। নিজেরাই নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করবেন।

Advertisement

২০২০ সালে উইসকনসিন থেকে ৩ হাজার ২১৮ কিলোমিটার দূরে মরুভূমিতে বাস করার সিদ্ধান্ত নেন হুইটনিরা। ক্যালিফোর্নিয়ার জোশুয়া জাতীয় উদ্যানে নিজেদের ঠিকানা গড়ার উদ্যোগ নেন।

মরুভূমির মাঝে ২ দশমিক ৩ একর জমি কেনেন। ২০২০ সালে যার দাম পড়েছিল মাত্র সাত হাজার পাউন্ড। বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় আট লাখ টাকা।

জমি কেনার পর তাতে বাড়ি করে বাসযোগ্য করে তুলতে আরো ২০ হাজার পাউন্ড খরচ করতে হয় হুইটনিদের। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১৯ লক্ষ টাকা।

আরো পড়ুন>> চালকের কারণে যাত্রীর ফ্লাইট মিস, উবারকে জরিমানা

মরুভূমির মাঝে বিরাট এক তাবু বেঁধেছেন হুইটনিরা। মধ্য এশিয়ায় যাযাবররা যেমন করে তাবু বাঁধেন, সেই রীতিতে বাঁশ, কাঠ দিয়ে তৈরি করেছেন আস্তানা। তীব্র গরম থেকে বাঁচতে কাঠামোর উপর রয়েছে মোটা কাপড়ের আচ্ছাদন। একে বলে ইয়ার্ট।

হুইটনি জানিয়েছেন, তিনি মানুষজন ভালবাসেন। কিন্তু ভিড় পছন্দ করেন না। তাই সিদ্ধান্তটা নিয়েছিলেন। তবে তা কার্যকর করার বিষয়টা সহজ ছিল না। কারণ দিনের বেলা ওই এলাকার তাপমাত্রা থাকে ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে।

২০২০ সাল থেকে নিজেদের আস্তানা তৈরির কাজ করছেন হুইটনিরা। অবশেষে তা শেষের পথে। হুইটনির কথায়, ‘‘মনে হচ্ছে, আমরা এভারেস্ট জয় করেছি। এত আনন্দ জীবনে আগে পাইনি।’’

মরুভূমির মাঝে হুইটনিদের ঘরে জ্বলে আলো। গরম থেকে বাঁচতে চলে এসি। কোথা থেকে আসে বিদ্যুৎ? দম্পতি জানিয়েছেন, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করেন তারা। মরুভূমিতে ওই একটি জিনিসের অভাব নেই।

আরো পড়ুন>> বিয়ের অনুষ্ঠানে রসগোল্লা নিয়ে মারামারি, নিহত ১

যুক্তরাষ্ট্রের ওই দম্পতি রান্না করেন গ্যাসে। তা কিন্তু শহর থেকে আনেন না। নিজেরাই জৈব গ্যাস উৎপাদন করেন। শাকসবজির খোসা, ফেলে দেওয়া খাবার, এমনকি নিজেদের বিষ্ঠার প্রক্রিয়াকরণ করে জৈব গ্যাস তৈরি করেন তারা। সেই দিয়েই স্টোভ এবং এয়ার ফ্রায়ারে রান্না করেন।

হুইটনি জানিয়েছেন, এখনও নিজেদের ‘ঘাঁটি’ তৈরির কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। আরো অনেক কাজ বাকি। আরো অনেক পরিষেবার ব্যবস্থা করতে চান তারা। হুইটনি জানালেন, মরুভূমিতে সব থেকে সমস্যায় পড়তে হয় পানি নিয়ে।

হুইটনি জানিয়েছে, এখনও যেটুকু পানি সঞ্চয় রয়েছে, তা দিয়ে দু’জন রোজই এক বার গোসল করেন। বাসনও মাজেন। তারা চেষ্টা করছেন, ধীরে ধীরে এই পানিসঞ্চয় বাড়ানোর।

এখনও গরম পানির ব্যবস্থা করতে পারেননি হুইটনিরা। আগামী দিনে সেই ব্যবস্থাও করে ফেলবেন বলে আশা তাদের। আরো একটি লক্ষ্য রয়েছে হুইটনিদের। ঠিক করেছেন, শাকসবজিও আর শহরের বাজার থেকে কিনে আনবেন না তারা। নিজেদের জমিতেই তৈরি করবেন গ্রিনহাউস। সেখানেই চাষ করবেন শাকসবজি।

সূত্র: ডেইলি স্টার ইউকে, আনন্দবাজার

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!