ঢাকা,  সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

সমকামীতার বিপক্ষে রাশিয়া, জোর পক্ষে জাতিসংঘ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০:৫২, ২৮ অক্টোবর ২০২২
সমকামীতার বিপক্ষে রাশিয়া, জোর পক্ষে জাতিসংঘ!
ফাইল ফটো

আইন সংশোধনের মাধ্যমে সমকামীতা, উভয়কামীতা ও ট্রান্সজেন্ডারের (এলজিবিটি) বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নিচ্ছে রাশিয়া। তবে রাশিয়ার পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।

এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালে সমকামী, উভয়কামী ও ট্রান্সজেন্ডার নিয়ে ‘কুখ্যাত’ আইনকে আরো কঠোর করায় শুক্রবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। এরইমধ্যে রাশিয়ার কাছে আইনটি বাতিলের আহ্বান করেছে সংস্থাটি।

গত বৃহস্পতিবার মস্কোর রক্ষণশীল মনোভাবের অংশ হিসেবে ২০১৩ সালের ঐ আইনটি সংশোধন করার প্রস্তাবে ভোট দেন রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ দ্য ডোমার আইনপ্রণেতারা।

Advertisement

এলজিবিটি অধিকারকর্মীরা বলছেন, রাশিয়ার সংশোধন করা আইন বাস্তবায়ন হলে প্রকাশ্যে সমকামী, উভয়কামী পরিচয় দেওয়া অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার দফতরের মুখপাত্র রাভিনা শামডাসানি বলেন, রাশিয়ার আইন সংশোধনের প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে সমকামী, উভয়কামী ও ট্রান্সজেন্ডার লোক ও তাদের অধিকার সম্পর্কে যেকোনো আলোচনা ও তথ্য ছড়ানোর নিষেধাজ্ঞাকে আরো কঠোর হবে। 

জাতিসংঘের মানবাধিকারের হাইকমিশনার ভরকার টার্গ রাশিয়ার ঐ আইনটি সংশোধনের প্রস্তাবে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি এ আইনকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের নিয়ম ও মাপকাঠি লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। 

শামডাসানি বলেন, রাশিয়ার এ আইনকে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা নিন্দা জানাচ্ছেন। কারণ এ আইন বৈষম্যমূলক, মৌলিক অধিকার ও স্বাধীন মনোভাব প্রকাশের লঙ্ঘন হবে। এটি ঘৃণার বাণী, ঘৃণা সংক্রান্ত অপরাধ বাড়াবে।

তিনি আরো বলেন, আইনটি সমকামীতা, উভয়কামী ও ট্রান্সজেন্ডারের বিষয়ে সবধরনের যোগাযোগকে বন্ধের সুযোগ বাড়াবে। আইনটি অবস্থা খারাপের দিকে নিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনার জন্য আইনপ্রণেতাদের কাছে আবেদন করেছেন টার্গ। তিনি সংশোধন বাতিলের আহ্বান জানান। 

টার্গ আইনটির অস্তিত্ব বাতিল করে যৌনতার শ্রেণি ও লিঙ্গ পরিচয়ভিত্তিক বৈষম্য এবং নির্যাতনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। 

শামডাসানি বলেন, টার্গ বলেছেন- একটি সমাজের মধ্যে যেকোনো গোষ্ঠীকে বর্জন, কলঙ্ক ও বৈষম্য করা সহিংসতার মূল কারণ। এটি সামগ্রিকভাবে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

দ্য রেইনবো ইউরোপ অরগানাইজেশনের তথ্যানুযায়ী, ইউরোপের ৪৯টি দেশের মধ্যে এলজিবিটি লোকদের সহনশীলতার তালিকায় রাশিয়া ৪৫তম স্থানে রয়েছে।

সূত্র-এনডিটিভি। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকেএ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!