ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য মস্কোকে দায়ী করা হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলছেন, পোল্যান্ডে বিস্ফোরিত ক্ষেপণাস্ত্রটি রাশিয়া থেকে নাও ছোঁড়া হতে পারে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, পূর্ব ইউরোপের দেশ পোল্যান্ডে বুধবার স্থানীয় সময় সকালে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। পোল্যান্ডের দাবি, এটি রাশিয়ার তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র। ঐ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দু’জন নিহত হন। এরপরই বিস্ফোরণের তদন্ত শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার সামরিক জোট ন্যাটোর মিত্ররা।
.png)
রয়টার্স বলছে, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী গ্রুপ অব টোয়েন্টির বা জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ার বালিতে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনসহ অন্য বিশ্বনেতারা।
ন্যাটোর সদস্য দেশ পোল্যান্ডে হওয়া এ বিস্ফোরণের ঘটনায় রাশিয়া জড়িত কিনা এমন প্রশ্নের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, প্রাথমিক যে তথ্য রয়েছে তাতে রাশিয়ার জড়িত থাকার দাবি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। আমরা এটি সম্পূর্ণরূপে তদন্ত না করা পর্যন্ত বলতে চাই না। তবে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ট্র্যাজেক্টোরির লাইন অনুযায়ী এটি অসম্ভাব্য যে রাশিয়া থেকেই এটি ছোঁড়া হয়েছিল। কিন্তু আমরা বিষয়টি আরো খতিয়ে দেখব।
বাইডেন আরো বলেন, যেকোনো পদক্ষেপ বা প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো দেশগুলো বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে তদন্ত করবে।
এদিকে, হোয়াইট হাউস জানায়, ইউক্রেনের সীমান্তের কাছে পূর্ব পোল্যান্ডের প্রজেওডো নামক গ্রামে ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণে দুজন নিহত হওয়ার পরে বাইডেন জরুরিভাবে নিজেই এ বৈঠকটি আহ্বান করেন। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, কানাডা, নেদারল্যান্ডস, জাপান, স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেতারা অংশ নেন। বৈঠকে অংশ নেয়া জাপান ছাড়া বাকি সবাই সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য। এছাড়া মার্কিন নেতৃত্বাধীন এ প্রতিরক্ষা জোটের মধ্যে পোল্যান্ডও রয়েছে।
মূলত বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য পোল্যান্ডে ক্ষেপণাস্ত্র পড়ায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ ন্যাটোর আর্টিকেল-৫ অনুযায়ী- জোটের কোনো একটি দেশের ওপর হামলা মানে পুরো জোটের ওপর হামলা। ক্ষেপণাস্ত্র পড়ার পর ন্যাটোর মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ জরুরি বৈঠক ডাকেন। এছাড়া বৈঠক ডেকেছে জি-৭ জোট ও জাতিসংঘও।